কংগ্রেসের কটাক্ষ সত্ত্বেও বাস্তবে রূপ নিচ্ছে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

গুয়াহাটি, ১৫ ফেব্রুয়ারি: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রবিবার দাবি করেছেন, তাঁর সরকারের ঘোষিত একাধিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকাঠামো প্রকল্প প্রথমদিকে কংগ্রেসের কটাক্ষের মুখে পড়লেও এখন সেগুলিই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। তাঁর কথায়, এটি রাজ্যের উন্নয়নের গতিপথে একটি “নির্ণায়ক পরিবর্তন”-এর ইঙ্গিত।

নগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কাজিরাঙা উড়াল করিডর, সুড়ঙ্গ নির্মাণ এবং মোরানে জাতীয় সড়ককে জরুরি বিমান অবতরণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের মতো প্রকল্প ঘোষণার সময় বিরোধীরা তাঁকে উপহাস করেছিল। “আমি যখন কাজিরাঙা এলিভেটেড করিডর, সুড়ঙ্গ এবং মোরানে হাইওয়েতে বিমান নামানোর কথা বলেছিলাম, তখন তারা হাসাহাসি করেছিল,” বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিরোধী নেতারা তাঁর ঘোষণাকে অবাস্তব বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রী রাতে যা স্বপ্ন দেখেন, দিনে তাই বলেন।” সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে শর্মা জানান, তাঁর সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং অসমে নজিরবিহীন পরিকাঠামো উন্নয়ন ঘটিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “রাস্তা ছাড়াও এবার আমি বলছি, ব্রহ্মপুত্রের ওপরেও বিমান নামবে,” ইঙ্গিত দেন ভবিষ্যৎ পরিবহণ ও জরুরি পরিষেবার নতুন সম্ভাবনার দিকে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন রাজ্যে শাসন করেও কংগ্রেস বড় আকারের পরিকাঠামো প্রকল্প কল্পনা বা বাস্তবায়ন করতে পারেনি, যেখানে বর্তমান সরকার সাহসী পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কাজিরাঙা এলিভেটেড করিডর ও মোরানের ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (ইএলএফ)-এর মতো প্রকল্প প্রমাণ করছে যে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও দুর্যোগ মোকাবিলার চ্যালেঞ্জের জন্য অসমকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বন্যাপ্রবণ রাজ্যে সংযোগ বৃদ্ধি, জাতীয় নিরাপত্তা, পর্যটন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

“অসম আর প্রচলিত চিন্তাধারায় আবদ্ধ নয়। আমরা বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তুলছি,” বলেন শর্মা। সমালোচনা সত্ত্বেও ভবিষ্যৎমুখী চিন্তা ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়াই সরকারের নীতি বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের মানুষ এখন মাটিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখছেন, সেটিই সরকারের কাজের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। উন্নয়নের গতি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে এবং ফলাফলের মাধ্যমেই অসমের রূপান্তরের গল্প লেখা হবে, বক্তব্য তাঁর।

Leave a Reply