আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতির দিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে চলে আসবে ভারত: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৫ ফেব্রুয়ারি: আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতির দিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে চলে আসবে ভারত। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যুব ও ছাত্রছাত্রীরা অন্যতম ভরসা। স্থানীয় ভাষা সহ সংখ্যালঘু ভাষা উন্নয়নের জন্যও কাজ করছে সরকার। সেই সঙ্গে ককবরক ভাষার উন্নয়নের জন্য নিজস্ব স্ক্রিপ্ট তৈরি করার প্রচেষ্টা করতে হবে।

আজ আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এভিবিপি) জনজাতি ছাত্রছাত্রী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ এখানে আসার পর ছাত্রছাত্রীদের ভারী মাত্রায় উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যে নিশ্চিতভাবে আগামীতে এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা হবে। ১৮ থেকে ৩৫ বছরের যুবরা আমাদের আগামীর ভবিষ্যত। জনসংখ্যার এই ৬৫% এর উপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে শক্তিশালী করার চিন্তাভাবনা করছেন। দেশের সুরক্ষা, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ সব বিষয়ে এই ১৮ থেকে ৩৫ বছরের যুবদের কথা ভেবে স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তাই প্রধানমন্ত্রী বলছেন সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা প্রয়াস, সবকা বিশ্বাস এর কথা। এরই একটা ঝলক আজ এখানে দেখতে পাচ্ছি আমি।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সমস্ত কলেজগুলিতে এই ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আরো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। ৭০ এর দশকে কমিউনিস্ট জমানায় স্কুল কলেজগুলিতে কখন যে বোমা পড়বে সেটা কেউ বলতে পারে না। ছাত্রছাত্রীদের বলা হতো স্কুল কলেজ ছেড়ে দিয়ে লাল বিপ্লবে অংশ নিতে। এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

ডাঃ সাহা আরো বলেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে একটা সুস্থিতি অবস্থা এসেছে। অথচ এরআগে দেশের কি অবস্থা ছিল! প্রতি মাসের শেষ রবিবারে মন কি বাত কার্যক্রমে দেশের মানুষের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশ ও রাজ্যগুলিকে কিভাবে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায় সেই দিশায় কাজ করছেন তিনি। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পরীক্ষা সম্পর্কে চাপমুক্ত করতে পরীক্ষা পে চর্চা কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রত্যেককে আগে দেশকে ভালবাসতে হবে। শুধু পড়াশুনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের জন্য চিন্তাভাবনা করতে হবে। স্বচ্ছ ভারত অভিযান, রক্তদান কর্মসূচি সহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মধ্যে একটা আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়। যেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এখন এ.আই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স) এর মাধ্যমে অনেক কিছু জানা যায়। এবারের বাজেটেও এ.আই এ ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে এ.আই থেকে সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু পুরোপুরি এর উপর নির্ভর করা যাবে না। আগে অর্থনীতির দিক দিয়ে ভারতের স্থান ছিল ১১তে। সেই জায়গায় পঞ্চম হয়ে এখন চতুর্থ স্থানে রয়েছে দেশ। যা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তৃতীয় স্থানে চলে আসবে। জ্ঞানের মাধ্যমেও আমাদের শক্তিশালী হতে হবে। আমাদের কৃষ্টি সংস্কৃতি পরম্পরা ধরে রাখতে হবে।


সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মন, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, এভিবিপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কমলেশ সিং, রাজ্য সভাপতি প্রফেসর ড. দেবরাজ পানিগ্রাহি, তীর্থরাম রিয়াং, সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক রবিশঙ্কর হালদার, অর্জুন ত্রিপুরা সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

Leave a Reply