কলকাতা, ১৫ ফেব্রুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তির শুনানি পর্ব শেষ হয়েছে। সমর্থনকারী পরিচয়পত্রের নথি যাচাই চলবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই প্রেক্ষিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাজ্যের পাঁচটি জেলায় ‘তালিকাবহির্ভূত’ নথি আপলোডের অস্বাভাবিক উচ্চ হার চিহ্নিত করেছে।
ইসি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পাঁচটি জেলা হল— কোচবিহার জেলা, মালদা জেলা, মুর্শিদাবাদ জেলা, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। পাঁচটিই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা, যার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্ষেত্রে উপকূলীয় সীমান্তও রয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতরের সূত্রে জানানো হয়েছে, এই পাঁচ জেলার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও তুলনামূলকভাবে কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে, যদিও তা সীমান্তবর্তী জেলাগুলির মতো নয়।
সূত্রের দাবি, সর্বাধিক ‘তালিকাবহির্ভূত’ নথি আপলোডের ঘটনা ধরা পড়েছে তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ ক্ষেত্রে। অন্যদিকে ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের ক্ষেত্রে এই ধরনের অনিয়ম প্রায় নেই বললেই চলে।
‘আনম্যাপড’ ভোটার বলতে তাঁদের বোঝানো হচ্ছে, যারা ‘সেল্ফ ম্যাপিং’ বা ‘প্রোজেনি ম্যাপিং’-এর মাধ্যমে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনও সংযোগ দেখাতে পারেননি। ২০০২ সালেই শেষবার পশ্চিমবঙ্গে ইন্টেনসিভ রিভিশন হয়েছিল। অন্যদিকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বলতে প্রোজেনি ম্যাপিং চলাকালীন অস্বাভাবিক পারিবারিক তথ্য বা অসংগতির বিষয়কে বোঝানো হচ্ছে।
ইসি আগেই জেলা শাসক (ডিএম) ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সতর্ক করেছিল যে, কেবলমাত্র অনুমোদিত ১৩ ধরনের নথিকেই বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তবু সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এত বেশি ‘তালিকাবহির্ভূত’ নথি আপলোড হওয়ায় কমিশন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে সূত্রের দাবি।
শুক্রবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর নেতৃত্বে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ ভার্চুয়াল বৈঠকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ইতিমধ্যে সিস্টেমে আপলোড হওয়া ‘তালিকাবহির্ভূত’ নথি ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অপসারণ করতে হবে।
রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। ১ মার্চ থেকে ইসির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দুই দিনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসবে এসআইআর-পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। এরপরই চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত।

