কলকাতা, ১৫ ফেব্রুয়ারি : গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সিম বক্স চক্রের পর্দাফাঁস করল পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। এই ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রবিবার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
শনিবার রাজারহাটের হাতিয়ারা এলাকায় একটি আবাসনের পঞ্চম তলার ৫বি নম্বর ফ্ল্যাটে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট হানা দেয়। বাইরে থেকে সাধারণ আবাসিক ফ্ল্যাট মনে হলেও, ভিতরে চলছিল অত্যাধুনিক টেলিকম কার্যকলাপ।
তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে ৯টি সিম বক্স মেশিন, আড়াই হাজারেরও বেশি সক্রিয় সিম কার্ড, একাধিক কী-প্যাড ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল রাউটিং ও জিএসএম টার্মিনেশনের জন্য ব্যবহৃত নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম, রাউটার, কেবল, পাওয়ার ইউনিটসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক সামগ্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ফ্ল্যাট থেকে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে আসা আন্তর্জাতিক কল ভারতে সংযুক্ত করা হত। অত্যাধুনিক সিম বক্স যন্ত্রের মাধ্যমে বিদেশি ভিওআইপি কলকে স্থানীয় বা দেশীয় কল হিসেবে ভারতীয় নেটওয়ার্কে পাঠানো হত। এর ফলে অবৈধ আন্তর্জাতিক গেটওয়ে এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে টেলিকম নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এতে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল বলে দাবি পুলিশের।
অভিযানের সময় অভিযুক্ত আবির শেখ ওরফে মনিরুল ইসলাম সাজিবকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি সক্রিয় অবস্থায় একাধিক সিম বক্স ডিভাইস পরিচালনা করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চক্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে বড়সড় আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের যোগ থাকতে পারে। আর্থিক লেনদেনের উৎস, সিম কার্ড সংগ্রহের পদ্ধতি এবং চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ইন্টেলিজেন্স বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, “এ ধরনের অবৈধ সিম বক্স কার্যকলাপ শুধু টেলিকম রাজস্বের ক্ষতিই করে না, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। গোটা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে গভীর তদন্ত চলছে।”

