বর্তমান সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৪ ফেব্রুয়ারি: সংবাদপত্র সমাজের আয়না। বর্তমান যুগ এআই-র যুগ, ইন্টারনেটের যুগ। গ্লোবালাইজেশনও চলে এসেছে। তাই সাংবাদিকদের আপডেট থাকতে হবে। বর্তমান সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আজ শহীদ ভগৎ সিং যুব আবাসের কনফারেন্স হলে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের দ্বি-বার্ষিক রাজ্য সম্মেলন ও সাংবাদিক কর্মশালার উদ্বোধন করে একথা বলেন। এবছর এই সাংবাদিক কর্মশালার মূল থিম হলো ‘পরিবর্তনটাকে গ্রহণ করুণ’। অনুষ্ঠানে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিস্কু রায়, বিশিষ্টজন ছাড়াও সারা রাজ্য থেকে আগত বহু সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদ বান্ধব সরকার। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রফেশন্যাল ট্রেনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন, সব ক্ষেত্রে দক্ষতা আনতে হবে। তিনি বলেন, সংবাদপত্রকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তন্ত বলা হয়। কলম হলো তলোয়াড় থেকেও ধারালো। এ রাজ্যের সাংবাদিকগণও অন্য রাজ্যের তুলনায় কোন অংশে কম নন।

তিনি বলেন, আমরা সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকে সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমান রাজ্য সরকার প্রতিদিন সারা রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা সহ সব বিষয়ে বিভিন্ন এজেন্সি, জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, ব্লক প্রশাসন সহ তৃণমূলস্তর থেকে খবরা খবর নেয়। এজন্য একটি মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে সংবাদপত্র ছিল। রেডিও ছিল। তারপর টিভি আসে। এখন সোস্যাল মিডিয়া ও ওয়েব মিডিয়া চলে এসেছে। বিভিন্ন ঘটনা আমরা সোস্যাল মিডিয়াতে দেখতে পাই। তাই সংবাদ পরিবেশনের সময় আপনাদের নিখুঁত ভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। যাতে বিভ্রান্তি না দেখা দেয়। তিনি বলেন, সংবাদ মাধ্যমের ক্ষেত্রে অনেক ব্যক্তি অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেড়িয়ে বিখ্যাত হয়েছেন। বর্তমান সাংবাদিকদেরও তাদের পথ অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠ লেখা সমাজকে প্রেরণা দেয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এই সংগঠনের মুখপত্র ‘মাধ্যম’-এর আবরণ উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিস্কু রায় বলেন, পৃথিবীতে আজ অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সময়ের সাথে সাংবাদিকদেরও বদলাতে হবে। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। তিনি বলেন, ওয়ার্কিং জার্নালিষ্টরা যাতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার শ্রম আইন সংশোধন করেছে। আগে দেশে মোট ২৯টি শ্রম আইন ছিল। যেগুলি পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় সরকার ৪টি শ্রম কোড তৈরী করেছে। আগে ১০ জন কাজ না করলে নিয়োগপত্র দেওয়া হতো না। এখন ১ জন কাজ করলেও নিয়োগপত্র পাবেন। ৩০ দিন কাজ করলে বোনাস দিতে হবে। ১ বছর কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে গ্র্যাচুয়িটি দিতে হবে। মহিলা ও পুরুষদের সম কাজে সমবেতন দিতে হবে। তিনি বলেন, এলক্ষ্যে গত ২ মাস আগে শ্রম দপ্তর, সংবাদপত্রের মালিক, সংবাদ প্রতিনিধি ও অন্যান্য দপ্তরের সমন্বয়ে একটি কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় পাল। অনুষ্ঠানে তেলেঙ্গানা রাজ্য থেকে আগত ৪ জন বিশিষ্ট সাংবাদিককে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন ত্রিপুরা ওয়ার্কিং জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুনীল দেবনাথ।

Leave a Reply