জেল থেকে মুক্তির পর বিহারে কন্যাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পাপ্পু যাদব

পাটনা, ১৪ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : সাতদিন কারাবাসের পর মুক্তি পেয়ে বিহারের পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব পাটনায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত করলেন। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, বিহারে আদৌ কি কন্যারা নিরাপদ? পাশাপাশি, সত্য বলার কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পাপ্পু যাদব প্রশ্ন তোলেন, তাঁর কারাবাসের সময় কন্যাদের নিখোঁজ হওয়া ও নৃশংস অপরাধের ঘটনায় কেন রাজনৈতিক মহলে নীরবতা দেখা গিয়েছিল। তীব্র সুরে তিনি বলেন, আমি জেলে থাকাকালীন কেউ কেন মুখ খোলেননি? এটা আমার ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এটা বিহারের কন্যাদের লড়াই।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘নোংরা রাজনীতি’ আখ্যা দিয়ে সাংসদ অভিযোগ করেন, যারা আপস করে তারা টিকে থাকে, আর যারা সত্য কথা বলে তাদের টার্গেট করা হয়। তিনি পরোক্ষে সরকার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেও প্রশ্নের মুখে তোলেন, দাবি করেন ন্যায় ও সত্যকে চাপা দেওয়া হচ্ছে।

পাপ্পু যাদব পাটনা পশ্চিমের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে শীঘ্রই পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনবেন বলে দাবি করেন। উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর ‘অপরাধীদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে’ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ভালো কথা। কিন্তু অপরাধকে জাতপাতের দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। অপরাধীর কোনও জাত হয় না।

কারাবাসের সময় পাশে থাকার জন্য তিনি রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা, দিগ্বিজয় সিং, জিতেন রাম মাঁঝি, শিবানন্দ তিওয়ারি এবং মুকেশ সাহানি-কে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, একাধিক চাঞ্চল্যকর খুনের মামলা ও ভুয়ো এনকাউন্টার সংক্রান্ত বড়সড় তথ্য প্রকাশ করতে পারেন। প্রয়োজনে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান তিনি।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পাপ্পু যাদব বলেন, কন্যাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন হলে আমি শতবার মরতেও প্রস্তুত, কিন্তু সত্য বলা বন্ধ করব না। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও অভিযোগে বিহারের রাজনৈতিক মহলে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে। আগামী দিনে মহিলাদের নিরাপত্তা ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply