ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : বাংলাদেশে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত জুলাই চার্টার গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ বোতামে চাপ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, গণভোটে ৪,৮০,৭৪,৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, আর ২,২৫,৬৫,৬২৭ জন ‘না’ বোতাম টিপেছেন।
ঢাকায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোটের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সংসদ নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৫৯.৪৪ শতাংশ, আর গণভোটে অংশগ্রহণের হার দাঁড়ায় ৬০.২৬ শতাংশ।
গত মাসে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছিল যে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন “অবৈধ” অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত সংবিধানিক নীতির চরম লঙ্ঘন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। দলটি দাবি করে, সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে এই গণভোট একটি “প্রহসন” এবং দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে এটি “কালো অধ্যায়” হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। তাদের আরও অভিযোগ, জনসমর্থনবিহীন একটি “অবৈধ সরকার” জনগণকে অন্ধকারে রেখে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) এবং তাদের জোট ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের দাবি করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১০টি আসনে জয়ী হয়েছে, যা নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম করেছে।
দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রায় ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বলে জানা গেছে। তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর পুত্র। খালেদা জিয়া ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ এই দুই মেয়াদে বাংলাদেশ শাসন করেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তাঁর মৃত্যুর পর তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
এদিকে, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজনৈতিক চিত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। চট্টগ্রাম জেলা, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলায় মোট ২৩টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২১টিতে জয়ী হয়েছে। বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামি পেয়েছে মাত্র দুটি আসন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় গণভোটে ‘না’ ভোটের সংখ্যাই ছিল বেশি

