বেঙ্গালুরু জাতীয় সড়কে চেইন সংঘর্ষে নিহত ৭, গাড়ি, মোটরসাইকেল ও ক্যান্টার ট্রাকের ধাক্কাধাক্কি; অতিরিক্ত গতিই প্রাথমিকভাবে কারণ

বেঙ্গালুরু, ১৩ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলার হোসকোটে তালুকের এম. সাথ্যাভারা গ্রামের কাছে শুক্রবার ভোরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। হোসকোটে-দাবাসপেট জাতীয় সড়কে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় একটি ক্যান্টার ট্রাক, একটি মোটরসাইকেল এবং একটি এক্সইউভি গাড়ি জড়িত ছিল।

প্রাথমিক পুলিশি প্রতিবেদনে জানা গেছে, কোলার থেকে দেবনাহাল্লির দিকে যাচ্ছিল এক্সইউভি গাড়িটি। সামনে চলতে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে প্রথমে ধাক্কা দেয় গাড়িটি। এরপর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি একটি ক্যান্টার ট্রাকে সজোরে আঘাত করে, যার ফলে পরপর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলেই গাড়ির ছয় আরোহী এবং মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় এক্সইউভি গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়িতে থাকা নিহত ছয়জনই বেঙ্গালুরুর কোথানুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কেন্দ্রীয় পরিসরের আইজিপি লাবু রাম বলেন, একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত যান সরিয়ে মরদেহগুলো হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাইক ও এক্সইউভিতে থাকা ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। অপর একজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, গাড়িচালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পর ক্যান্টার ও মোটরসাইকেলটি রাস্তার মিডিয়ান টপকে বিপরীত পাশে গিয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত এক্সইউভি গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে থামে।

সুলিবেলে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার চন্দ্রকান্তও দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত গতিকেই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হোসকোটে সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কটির নকশা ও নির্মাণমান নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সদাপ্পানাহল্লি থেকে কামালিপুরা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কাংশে যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। নির্মাণকালে এক প্রকৌশলী নকশাগত ত্রুটি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

Leave a Reply