ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেক ভোটার। নির্বাচনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি(বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ জনসমর্থন পাওয়ায় দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়েছে।
ঢাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোটগ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল। এক বাসিন্দা বলেন, নির্বাচন ভালো হয়েছে। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে, কোনো সহিংসতা হয়নি, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা সহিংসতার আশঙ্কা করেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু।
আরেক ভোটার মিসবা রহমান বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু দেখেছি, সহিংসতা খুবই কম ছিল। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কারচুপির কোনো লক্ষণ চোখে পড়েনি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি তাদের জন্য বড় বিজয়, কিন্তু একই সঙ্গে বড় দায়িত্বও। অর্থনীতি ভালো করছে না, বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অস্থির, চ্যালেঞ্জ অনেক।
একই সুরে কথা বলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মির্ধা। তিনি বলেন, অধিকাংশ আসনে জয় পাওয়ায় এটি বিএনপির জন্য বড় বিজয়। তবে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এটি জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেট। মানুষ বিবেচনা করেই ভোট দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আস্থা অর্জনের প্রচেষ্টার ফলেই বিএনপি এই বিপুল বিজয় পেয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা নতুন সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই রায় তার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন এবং ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
তারেক রহমান ঢাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এক দশকের বেশি সময় ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর পুত্র তারেক রহমান গত বছর তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনী এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি এখন এমন এক সময়ে দেশের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন, যখন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

