নয়াদিল্লি, ১২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অসমের ডিব্রুগড় জেলার মোরানে চার লেনের জাতীয় সড়কের উপর নির্মিত জরুরি অবতরণ সুবিধা (ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি) শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
জাতীয় সড়কের ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশকে জরুরি রানওয়ে হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি)-র নিকটে অবস্থিত হওয়ায় ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ)-র জন্য এটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সামরিক মোতায়েন ও অপারেশন পরিচালনায় এই রানওয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রথম জরুরি অবতরণ সুবিধার উদ্বোধন করবেন। আইএএফ-এর রাফাল ও সুখোই যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক বিমান এই রানওয়ে ব্যবহার করতে পারবে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নিজেই বায়ুসেনার সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস বিমানে করে এই এয়ারস্ট্রিপে অবতরণ করবেন।
বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলক মহড়ায় জাতীয় সড়ক-২-এ একাধিক যুদ্ধবিমান অবতরণ করেছে। একটি এয়ার ফোর্স ডর্নিয়ার বিমান, সুখোই ও রাফাল বিমান এই এয়ারস্ট্রিপ থেকে উড্ডয়ন করে। প্রথমে তিনটি সুখোই যুদ্ধবিমান রানওয়ের উপর দিয়ে উড়ে গিয়ে একে একে অবতরণ করেছে। পরে একই কায়দায় তিনটি রাফাল ফর্মেশন ড্রিল প্রদর্শন করেছে। পরিবহণ বিমান এএন-৩২-ও ‘টাচ অ্যান্ড গো’ মহড়া সম্পন্ন করেছে।
দুই-মুখী যুদ্ধের সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে বায়ুসেনা তার যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয় সড়কের উপর জরুরি অবতরণ সুবিধা নির্মাণের কাজ দ্রুততর করা হয়েছে।
বর্তমানে সারা দেশে মোট ২৮টি জরুরি অবতরণ সুবিধা প্রস্তুত হয়েছে। এর মধ্যে অসমে ৫টি, পশ্চিমবঙ্গে ৪টি, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ ও গুজরাতে ৩টি করে, তামিলনাড়ু, বিহার, জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানায় ২টি করে এবং পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশে ১টি করে রয়েছে। জাতীয় সড়কের পাশাপাশি কিছু রাজ্য সরকার রাজ্য সড়কেও এ ধরনের সুবিধা গড়ে তুলছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের এয়ারস্ট্রিপ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস বিমানে সেখানে অবতরণ করেছিলেন। এবার উত্তর-পূর্বে একই ধরনের অবকাঠামো উদ্বোধন প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

