গুয়াহাটি, ১২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : অসমের প্রায় ২,৬৭৬ বর্গকিলোমিটার বনভূমি বর্তমানে দখলের আওতায় রয়েছে, যা প্রায় দিল্লির আয়তনের দ্বিগুণ। এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে তিনি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এবং পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের নীতিকেই এর জন্য দায়ী করেন।
মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ২,৬৭৬ বর্গকিলোমিটার বনভূমি যা প্রায় দিল্লির দ্বিগুণ, দখলে রয়েছে। নিশ্চিন্ত থাকুন, অসম বিজেপি এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, তার ব্যাপকতা বোঝাতেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে একাধিক জেলায় উচ্ছেদ অভিযান ও বন সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের মধ্যেই এই মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দখলমুক্ত বনভূমি পুনরুদ্ধারে জোরদার অভিযান চলছে।
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, পূর্ববর্তী কংগ্রেস আমলে লাগামছাড়া দখলের ফলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী করিডরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান সরকার মনে করছে, এই পরিস্থিতি জীববৈচিত্র্য, মানুষ-পশু সংঘাত নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে।
সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, দখলের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলাকা চিহ্নিত করতে বিস্তারিত সমীক্ষা ও স্যাটেলাইট ম্যাপিং ব্যবহার করা হচ্ছে। দখলমুক্ত জমিতে পুনরায় বনায়ন এবং উন্নত বন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে বিরোধী দল উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপে প্রান্তিক ও দরিদ্র সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজ্য সরকার পাল্টা জানিয়েছে, সমস্ত পদক্ষেপ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে জমি সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় কড়া অবস্থান তুলে ধরতেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারগুলির ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের প্রশাসনিক অবস্থান জোরদার করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে এই মন্তব্যকে।
বন সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার নীতি হিসেবে তুলে ধরে দখলমুক্ত জমি পুনরুদ্ধার এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে অসম সরকার। তবে উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

