ভারত–যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোকে স্বাগত প্রধানমন্ত্রীর, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও কর্মসংস্থানে আসবে প্রগতি

নয়াদিল্লি, ৭ ফেব্রুয়ারি : ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে ঐকমত্যকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি একে দুই দেশের জন্যই “দারুণ খবর” বলে অভিহিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার এই কাঠামোর মধ্যেই প্রতিফলিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই চুক্তির কাঠামো দুই দেশের অংশীদারিত্বের ক্রমবর্ধমান গভীরতা, পারস্পরিক আস্থা ও গতিশীলতার পরিচয় দেয়।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামো ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে শক্তিশালী করবে। এর ফলে দেশের কৃষক, উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), স্টার্টআপ উদ্ভাবক, মৎস্যজীবীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে মহিলা ও যুব সমাজের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই কাঠামো ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে গভীর করবে, বিশ্বাসযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করবে এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতমুখী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—যা মানুষের ক্ষমতায়ন করবে এবং সমৃদ্ধি ভাগ করে নেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত এক্স-বার্তার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজের এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি দারুণ খবর। আমাদের দুই মহান দেশের মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে আমরা একমত হয়েছি। দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরও লেখেন, এই কাঠামো ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-কে শক্তিশালী করবে এবং ভারতের পরিশ্রমী কৃষক, উদ্যোক্তা, এমএসএমই, স্টার্টআপ উদ্ভাবক, মৎস্যজীবীসহ বহু মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। পাশাপাশি মহিলা ও তরুণদের জন্য বড় আকারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে। এই কাঠামো বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

Leave a Reply