প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমানতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার বিএনপির ইশতেহারে

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শুক্রবার তাদের নতুন ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ৫১-বিন্দুর ইশতেহারটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উন্মোচন করেন এবং এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমানতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার জানানো হয়েছে।

তারেক রহমান ঢাকায় এক হোটেলে বলেন, আমরা আমাদের দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলব। ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই সম্পর্কের ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া, যা নিশ্চিত করবে সামগ্রিক উন্নয়ন।

ইশতেহারে বিএনপি বাংলাদেশের নীতি-প্রণালীর মূল দর্শন হিসেবে “বাংলাদেশ প্রথম” নীতি গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছে। এ ছাড়াও, হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ বৃদ্ধির জন্য তহবিল বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, নির্বাচিত হলে সরকার সব দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবে, যা সমতা, ন্যায় এবং বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা হবে। এ সময় কোনও দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও, পদ্মা, তিস্তা ও বাংলাদেশের সকল সীমান্তবর্তী নদীর ন্যায্য জলের ভাগ নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের ওপর যে কোনও আক্রমণ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সীমান্ত হত্যা ও অনুপ্রবেশসহ সকল অন্যায় কর্মকাণ্ড রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের ভূমিকা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়েও ইশতেহার গুরুত্ব আরোপ করেছে। তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম ব্যক্তিগত, রাষ্ট্র সকলের জন্য। সকল ধর্মের নাগরিকই স্বাধীনভাবে তাদের ধর্ম পালনের অধিকার পাবেন এবং কোনও নাগরিকের ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করার সুযোগ থাকবে না। হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের কল্যাণ সংস্থার তহবিল বাড়িয়ে তাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি ইশতেহারে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের অঙ্গীকারও করেছে। বলা হয়েছে, “চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী” গড়ে তোলা হবে, যা রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে এবং বিশ্বস্ত প্রতিবিধান ক্ষমতা অর্জন করবে।

বিএনপির লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আধুনিক, গণতান্ত্রিক এবং উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে বার্ষিক জিডিপি হবে এক ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়াও কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বর্তমানে সাত শতাংশের কম।

তারেক রহমান ইশতেহারের সমাপনী বক্তব্যে বলেন, আমাদের দল তিনটি প্রধান বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা। ইশতেহারটিকে কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

Leave a Reply