আগরতলা, ২ ফেব্রুয়ারি: আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডিপার্টমেন্টের চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত যুবক শারীরিক ভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল। ধলাই জেলার আমবাসা কলোনির বাসিন্দা ২৩ বৎসর বয়সী এক যুবক একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। এই দুর্ঘটনায় তার ঘাড়ের ও মেরুদণ্ডের দুটি হাড়(সিসিক্স ও সিসেভেন কশেরুকা) ভেঙে যায় এবং স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে তার হাত ও পা খুব দুর্বল হয়ে পড়ে, তার শরীরের অনুভূতি কমে যায় এবং সে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে। প্রথমে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মেরুদণ্ডে স্পাইনাল ফিক্সেশন সার্জারি করা হয়। অস্ত্রোপচারের কিছুদিন পর তাকে বেসরকারি একটি পুনর্বাসন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ওই হাসপাতালের মাধ্যমে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের পিএমআর (ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন) ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তার পরিবার-পরিজনরা যোগাযোগ করেন। এরপর গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ রোগীকে কলকাতা থেকে ফিরিয়ে এনে জিবিপি হাসপাতালের পিএমআর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। জিবিপি হাসপাতালে তার সম্পূর্ণ পুনর্বাসন চিকিৎসা শুরু হয়।
জিবিপি হাসপাতালের পিএমআর ডিপার্টমেন্টের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট এবং অর্থোটিক্স ও প্রন্থেটিক টেকনিশিয়ান এবং স্টাফ নার্সদের সম্মিলিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় রোগী ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করে। এই চিকিৎসায় পরিষেবায় পিএমআর ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ রাকেশ দাস, সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাঃ মানিক জমাতিয়া সহ সকল কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাকে প্রয়োজন অনুযায়ী নিউরোসার্জারি, ইউরোলজি, সিটিভিএস ও চর্মরোগ বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শও নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও নিয়মিত থেরাপির ফলে বর্তমানে রোগী ওয়াকারের সাহায্যে হাঁটতে পারছেন। তিনি এখন প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম এবং দৈনন্দিন জীবনের বেশিরভাগ কাজ নিজেই করতে পারছেন। সফল চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর রোগীকে গত ১৮ জানুয়ারি জিবিপি হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। এই ঘটনা জিবিপি হাসপাতালের পিএমআর ডিপার্টমেন্টের দক্ষতা ও মানবিক চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

