কেরল, ২৪ জানুয়ারি: আগামী এপ্রিলেই কেরলে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরই মধ্যে দিল্লিতে শুক্রবার কংগ্রেসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। এই বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পায় কারণ, কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছিল। তবে বৈঠকের পর জানা গেছে, রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত নন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচন শেষে ভোটাভুটির মাধ্যমে যদি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ক্ষমতায় আসে, তবেই মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে আলোচনা হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, রাহুলের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কি দলের মধ্যে চলমান কোন্দল প্রভাব ফেলেছে? কেরলের কংগ্রেস শিবিরে নানা সময়েই নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। তেমনই মনে করা হচ্ছে, কোনো নির্দিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলে সেই কোন্দল আরও বেড়ে যেত। তাই আপাতত কংগ্রেস সেই পথে হাঁটতে চায়নি।
বৈঠকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব কেরলের নেতাদের ঐক্য বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে। সম্প্রতি কেরলের স্থানীয় নির্বাচনের ফল কংগ্রেসের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এছাড়াও প্রাথমিক সমীক্ষায় কংগ্রেস সামান্য এগিয়ে রয়েছে, যা দলের জন্য আশাব্যঞ্জক। এই অবস্থায় দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দলের মধ্যে কোনো বিতর্ক বা অন্তর্দ্বন্দ্ব সহ্য করা হবে না, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দেন, “কেরলের সাড়ে তিন কোটি মানুষ পরিবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কংগ্রেস রাজ্যে প্রগতিশীল, উন্নয়নমুখী এবং জনকল্যাণভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ফেরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এদিকে, বৈঠকের পর একটি সোশাল মিডিয়া পোস্টে খাড়গে আরও বলেন, কেরলে কংগ্রেসের ঐক্য এবং দলীয় দৃঢ়তা বজায় রাখতে হবে। তবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না চারবারের সাংসদ শশী থারুর। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে। বলা হচ্ছে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে কেরলে একটি সমীক্ষা হয়েছিল, যেখানে ২৮.৩ শতাংশ মানুষ শশী থারুরকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। তবে রাহুল গান্ধীর পূর্ববর্তী সফরে শশী থারুর অপমানিত বোধ করেছিলেন, এমনটাই দাবি করছেন দলের কিছু সদস্য। সেই কারণে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেননি বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অবশ্য, কংগ্রেসের অভ্যন্তরে এই আলোচনা আরও তীব্র হতে পারে, কারণ কেরলে বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফলাফল রাজ্যের রাজনীতি ও কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

