ফটিকরায়কাণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিট গঠনের দাবি বিরোধী দলনেতার

আগরতলা, ২২ জানুয়ারি: চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ফটিকরায়ে একাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যে প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় প্রদেশ বিজেপি সভাপতির কাছে ওই ঘটনাটি অত্যন্ত সামান্য। তাই প্রশাসনের নিকট ফটিকরায়কাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, গোটা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করে নিজেদের রাজনৈতিক কাহিনী সার্থক করতে চাইছে বিজেপি। গণতন্ত্র হত্যা ও লুটপাটের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর ফলে ত্রিপুরাবাসীও এই আগুনের তাপ থেকে রেহাই পাবেন না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, ক্ষমতা ধরে রাখতে বিজেপি সব ধরনের হিংসাত্মক কাজ করতেও পিছুপা হচ্ছে না। নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য রাজ্যজুড়ে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গত সাড়ে সাত বছরে রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে তিনি গন্ডাছড়া, পশ্চিম ত্রিপুরা, পেকুয়াছড়া এবং ফটিকরায়ের ঘটনাগুলোর কথা তুলে ধরেন।

বিরোধী দলনেতার দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলেও সেগুলি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত হতাশাজনক। এসব ঘটনায় প্রশাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিন তিনি আরও জানান, ঐতিহ্যবাহী ভৈরব মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির বিরোধিতায় ফটিকরায় এলাকায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময় এলাকাজুড়ে একের পর এক বাড়িঘর, দোকানপাট ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর এবং মারপিটের ঘটনা ঘটে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের তৎপরতা ও বুদ্ধিমত্তার কারণেই ওইদিন বড় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর মতে, পুলিশ যদি সেই সময় লাঠিচার্জ না করত, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারত। তা সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে এখনো পর্যন্ত ওই ঘটনার কোনো তদন্ত শুরু করেনি প্রশাসন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যে প্রতিনিয়ত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়া হলেও শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ঘটনাগুলিকে তুচ্ছ হিসেবে দেখছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রদেশ বিজেপি সভাপতির কাছে ফটিকরায়ের মতো গুরুতর ঘটনাও নাকি সামান্য ঘটনা মাত্র। এই মনোভাব রাজ্যের গণতন্ত্র ও সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা।

এদিন জিতেন্দ্র চৌধুরী প্রশাসনের নিকট মোট ছয় দফা দাবি জানান। তার মধ্যে অন্যতম দাবি হল—ফটিকরায় কাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা। পাশাপাশি, দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকে ফটিকরায়ের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি পরিবারকে অতিসত্বর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

Leave a Reply