ইম্ফল, ২২ জানুয়ারি: মণিপুরে জাতিগত হিংসা যে এখনও পুরোপুরি থামেনি, ফের তারই প্রমাণ মিলল। নেপালে কর্মরত ৩৮ বছরের এক মেইতেই যুবককে অপহরণ করে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠল কুকি অধ্যুষিত চূড়াচাঁদপুর এলাকায়। এই ঘটনার একটি হাড়হিম করা ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও ভিডিওর সত্যতা সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল যাচাই করেনি।
ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, অন্ধকার রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসে আছেন ওই যুবক। সামনে সশস্ত্র কয়েকজন। হাত জোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইছেন তিনি। কিন্তু তাতেও মন গলেনি জঙ্গিদের। কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে চারদিক। ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত যুবকের নাম এম ঋষিকান্ত। তিনি মণিপুরের কাকচিং জেলার বাসিন্দা এবং কর্মসূত্রে নেপালে থাকতেন। ছুটিতে বাড়ি এসে কুকি সম্প্রদায়ের স্ত্রীের সঙ্গে দেখা করতে চূড়াচাঁদপুর এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই সন্ধ্যার দিকে তাঁকে অপহরণ করা হয়। পরে রাতে গুলি করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ।
যদিও কুকি সংগঠনগুলির তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে ঘটনার সময় ও পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে মণিপুর প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শান্তির বার্তার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২১ জানুয়ারি ছিল মণিপুর, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যের স্বীকৃতি দিবস। সেই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মণিপুরের মানুষের পরিশ্রম, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং খেলাধুলার প্রতি আবেগের প্রশংসা করে রাজ্যের শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু তার পরদিনই মণিপুরে এই রক্তাক্ত ঘটনা ফের রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে মোদির ইতিবাচক বার্তার পরপরই এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করছে, মণিপুরে অশান্তির আগুন এখনও নিভে যায়নি—তলে তলে ছাইচাপা অগ্নিকুণ্ড জ্বলছেই।

