দক্ষিণ ত্রিপুরায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ: প্রথমবার প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে নির্মিত হল রাস্তা

আগরতলা, ২০ জানুয়ারি: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় প্রথমবারের মতো প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণের এক উল্লেখযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শান্তিরবাজার মহকুমায় আরআইডিএফ প্রকল্পের আওতায় গবিন বাড়ি থেকে অনুরামপাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রাস্তা এলাকার আটটি পাড়ার জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে।

দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষজন যোগাযোগ সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। বর্ষাকালে কাঁচা ও জরাজীর্ণ রাস্তায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠত। নতুন এই রাস্তা নির্মাণের ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বাজার ও প্রশাসনিক দপ্তরে পৌঁছনো অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শান্তিরবাজার পূর্ত দপ্তরের উদ্যোগে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় এই প্রথম প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পর্ব ত্রিপুরা জানান, রাজ্যের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনবসতিগুলিকে উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানান, কলকাতায় অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন তিনি।

এই রাস্তায় নির্মাণকাজে ৯২ শতাংশ বিটুমিনের সঙ্গে ৮ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে রাস্তা নির্মাণের ফলে বিটুমিনের সঙ্গে প্লাস্টিকের বন্ধন আরও মজবুত হয়, যার ফলে রাস্তার স্থায়িত্ব ও সহনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আরও জানান, এই প্রযুক্তিতে নির্মিত রাস্তা সাধারণ রাস্তার তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলকভাবে কম। ভবিষ্যতে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের পরিবেশবান্ধব রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন। তাদের মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার দিক থেকেও এই প্রকল্প এক নতুন দিশা দেখাবে।

Leave a Reply