মহারাষ্ট্রের ২৯টি পৌর কর্পোরেশন নির্বাচনের পর পরাজয় স্বীকার করলেন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার

পুণে, ১৭ জানুয়ারী : মহারাষ্ট্রের ২৯টি পৌর কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রায় স্পষ্ট হওয়ার পর, উপমুখ্যমন্ত্রী এবং এনসিপি সভাপতি অজিত পওয়ার তার দলের পরাজয় স্বীকার করেছেন।

তিনি তার অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে জানান, “আমি জনগণের রায়কে পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করছি। জনগণের সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ, এবং আমরা তা সম্পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নিচ্ছি। আমি বিজয়ী প্রার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং তাদের ভবিষ্যৎ কার্যকালীন সফলতা কামনা করছি,” বলেন উপমুখ্যমন্ত্রী পওয়ার।

পার্টির প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল না আসায় তিনি আরও বলেন, “এই স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনে আমরা যে সফলতা আশা করেছিলাম তা অর্জিত হয়নি, তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে আমরা আরও দায়িত্বশীল, সৎ এবং দ্বিগুণ উদ্যমে জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করার জন্য কাজ করবো।” তিনি বিজয়ী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জনগণের সমস্যাগুলি প্রাধান্য দিয়ে এবং উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।” সেইসাথে তিনি হারানো প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জনগণের সেবা আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং তা কখনোই হারানো উচিত নয়।”

এই নির্বাচনের ফলাফল অজিত পওয়ারের পশ্চিম মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক অবস্থানে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মহাযোতি জোটের বিজেপি এবং একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিব সেনার সঙ্গে আলাদা হয়ে তার “মূল” এনসিপি শক্তি প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে তিনি নিজে নির্বাচন লড়লেও, তার দল পুণে এবং পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড় (পিসিএমসি) তে ব্যাপক পরাজয় সন্মুখীন হয়েছে।

যে দুটি শহর এক সময় পওয়ার পরিবারের ব্যক্তিগত দুর্গ ছিল, সেগুলোতে এখন বিজেপি ব্যাপক জয়লাভ করেছে, অজিত পওয়ারের গোষ্ঠীকে তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে অবস্থান করতে হয়েছে।

মুম্বই এবং ছত্রপতি সাম্ভাজিনগরেও, এনসিপি কোন উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি এবং বিএমসি নির্বাচনে ডাবল ডিজিটেও আসন পেতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, বিজেপির বিরুদ্ধে অজিত পওয়ারের “বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই”-এর কৌশলটি উল্টো ফল দিয়েছে।

ফলাফলগুলো এমন একটি সঙ্কেত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, “পওয়ার বংশের” ভোট তার গোষ্ঠী এবং তার চাচা শরদ পওয়ারের গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত বিজেপির পক্ষে গেছে। এই পরাজয় ২০২৬ সালের পৌর নির্বাচনগুলোতে অজিত পওয়ারের জন্য একটি গুরুতর সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ২০২৯ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে মহাযোতি জোটের ক্ষমতার গতিবিধি পরিবর্তিত হতে পারে।

Leave a Reply