মনরেগার নাম বদল নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন বিরোধীরা : টিংকু

আগরতলা, ১৬ জানুয়ারি :মনরেগার নাম বদল নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে বিরোধীরা। প্রতিদিন রাজ্যের কোথাও না কোথাও প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন বিরোধীরা। তাতে রাজ্যবাসী বিভ্রান্ত হচ্ছে। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন মন্ত্রী টিংকু রায়।

টিংকু জানান, মনরেগা বা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন চালুর অনেক আগেই ভারতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক কর্মসূচি ছিল। রিলিফ ওয়ার্ক, খাদ্যের বিনিময়ে কাজ (ফুড ফর ওয়ার্ক) এবং জাতীয় গ্রামীণ রোজগার প্রকল্প (এনআরইপি)-এর মতো উদ্যোগগুলি ধাপে ধাপে রূপান্তরিত হয়ে ২০০৫ সালে জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন-এ পরিণত হয়। পরে ২০০৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর নাম যুক্ত করে প্রকল্পটি ‘মনরেগা’ নামে পরিচিতি পায়। প্রায় ২০ বছর পরে মনরেগার নাম পরিবর্তন করে ভি বি-জি রাম জি প্রকল্পে রূপান্তরিত করা হয়েছে।

এদিন তিনি বলেন, বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার ও আজীবিকা মিশন আইন এমজিএনরেগার তুলনায় একটি বড় সংস্কার। এই নতুন আইনে কর্মসংস্থানের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ করা হয়েছে। পুরনো আইনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা, পরিকল্পনা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করাই এই আইনের লক্ষ্য। পাশাপাশি উৎপাদনশীল সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করা, আয় বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ও আর্থিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ সমাজকে আরও সহনশীল করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, ইউপিএ সরকারের আমলে মনরেগা প্রকল্পে মোট ২ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। অপরদিকে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এনডিএ সরকারের আমলে খরচ হয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। তাঁর দাবি, এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট যে গ্রামোন্নয়নের ক্ষেত্রে এনডিএ সরকার সবসময় ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিরোধীদের সমালোচনা করে টিংকু রায় বলেন, মানুষের কাজ ও মজুরি নিয়ে কথা না বলে বিরোধীরা শুধু নাম নিয়ে রাজনীতি করছে। এতে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি রাজ্যবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সরকার গ্রামীণ মানুষের স্বার্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।