প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই বাংলা পাচ্ছে ৭টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, ৯টি নতুন ট্রেন চালু করছে রেল

কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগামী সফরের আগেই পশ্চিমবঙ্গ পাচ্ছে সাতটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস। পূর্বাঞ্চল ও হিমালয় সংলগ্ন এলাকার সঙ্গে দক্ষিণ, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের প্রধান শহরের মধ্যে যাতায়াত সহজ করতে এই নতুন ট্রেনগুলি চালু করছে ভারতীয় রেল।

এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গ এবং অসম থেকে ৯টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে রেল। এই নতুন ট্রেনগুলো অসম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটকের মতো বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করবে।

রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ট্রেনগুলি বিশেষভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। ট্রেনগুলো হবে নন-এসি এবং স্বল্প খরচে যাত্রার সুবিধা প্রদান করবে। চেন্নাই এবং বেঙ্গালুরু মতো শহরে পৌঁছানোর সুবিধা আরও বাড়বে, ফলে উত্তরবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার অঞ্চলও বাড়তি গুরুত্ব পাবে।

রেলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে তারা বিপুল যাত্রীচাপ সামলাতে সক্ষম হয়, বিশেষত উত্সব বা পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের জায়গায় যাওয়ার সময়। এই ট্রেনগুলি দেশের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করবে, এবং যারা কাজ, পড়াশোনা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে বিভিন্ন রাজ্যে যাবেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা হয়ে উঠবে।

এ পর্যন্ত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করার পর থেকে ৩০টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করছে। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই তালিকায় আরও ৯টি নতুন ট্রেন যুক্ত হতে চলেছে। এই নতুন পরিষেবাগুলো দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ এবং উন্নত করবে।

নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনগুলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। এই নতুন ট্রেনগুলির রুটগুলির মধ্যে রয়েছে—গুয়াহাটি (কামাক্ষা) থেকে রোহতক, ডিব্রুগড় থেকে লখনউ (গোমতী নগর), নিউ জলপাইগুড়ি থেকে নাগেরকোলি, নিউ জলপাইগুড়ি থেকে তিরুচিরাপল্লী, আলিপুরদুয়ার থেকে এসএমভিডি বেঙ্গালুরু, আলিপুরদুয়ার থেকে মুম্বই (পানভেল), কলকাতা (সাঁতরাগাছি) থেকে তাম্বারম, কলকাতা (হাওড়া) থেকে আনন্দ বিহার টার্মিনাল এবং কলকাতা (শিয়ালদহ) থেকে বেনারস। এই ট্রেনগুলির চালু হওয়ার পর যাত্রীদের যাত্রার অভিজ্ঞতা হবে আরও আরামদায়ক ও সুবিধাজনক, কারণ এটি দেশজুড়ে বিভিন্ন শহর এবং রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করবে। এতে বিশেষত পরিযায়ী শ্রমিক এবং অন্যান্য যাত্রীদের যাতায়াত আরও সাশ্রয়ী ও সহজ হবে, যা দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

Leave a Reply