বেঙ্গালুরু, ১৪ জানুয়ারি : কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন ‘বিভ্রান্তি’। যদিও গত নভেম্বরে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার হাসিমুখে একে অপরকে সমর্থন করার বার্তা দিয়েছিলেন, এখন সেই সম্পর্কের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, সিদ্দারামাইয়া স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে।
সূত্র অনুযায়ী, সিদ্দারামাইয়া সম্প্রতি হাইকমান্ডকে জানিয়েছেন যে তিনি মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে আগ্রহী এবং মুখ্যমন্ত্রী বদল সংক্রান্ত চলতি গুজবের অবসান চাচ্ছেন। কর্নাটক রাজ্যে নেতৃত্ব নিয়ে চলা গুঞ্জনের কারণে তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। এর মাধ্যমে সিদ্দারামাইয়া কংগ্রেসের অন্দরমহলে চলা বিভ্রান্তি দূর করতে চান।
গত মাসে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কর্নাটকের নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি না থাকার দাবি করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, “কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে হাইকমান্ডের কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হয়নি।” তবে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা যখন এই বক্তব্য দেন, তখন দলের ভিতরেই ক্ষমতা হস্তান্তরের নিয়ে গুঞ্জন ছিল। এখন সিদ্দারামাইয়ার হাইকমান্ডের কাছে স্পষ্টীকরণ চাওয়ায় দলের ভিতরে নতুন করে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
এদিকে, কংগ্রেসের নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের বিষয়ে শোনা যায় যে, দু’বছর আগে বিপুল জনাদেশ নিয়ে কর্নাটকে কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরলে, মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে দুটি শিবিরের মধ্যে বিভাজন ছিল। একদিকে প্রবীণ নেতা সিদ্দারামাইয়া, অন্যদিকে উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা একবাক্যে স্বীকার করেন, শিবকুমারের নেতৃত্বে কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফিরে আসা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সিদ্দারামাইয়াকেই বসানো হয়।
একটি সূত্র দাবি করছে, সেই সময় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত ছিল, আড়াই বছর পর মুখ্যমন্ত্রী পদে পরিবর্তন হবে এবং সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারের মধ্যে এই দায়িত্ব ভাগ হবে। বর্তমানে সিদ্দারামাইয়ার দাবি, এই আড়াই বছরের সময়সীমা পূর্ণ হয়ে গেছে এবং এখন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে প্রস্তুত নন। ফলে, মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে কর্নাটক কংগ্রেসের অন্দরমহলে আরও উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সংঘাত কংগ্রেসের ভবিষ্যত কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করছেন।

