ভারতের ব্রিকস সভাপতি পদ ২০২৬-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উদ্বোধন, মানবিক ও মানুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরলেন এস. জয়শঙ্কর

নয়াদিল্লি, ১৩ জানুয়ারী:
মঙ্গলবার ভারতের ব্রিকস সভাপতি পদ ২০২৬ উপলক্ষে সরকারি ওয়েবসাইট ও লোগোর উদ্বোধন করেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের ব্রিকস চেয়ারশিপ সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর বৈশ্বিক কল্যাণে কাজ করবে।

বিদেশমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সাল ব্রিকস গোষ্ঠীর যাত্রাপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ ওই বছর ব্রিকসের প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্ণ হবে। এই দুই দশকে ব্রিকস উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রিকস তার কর্মসূচি ও সদস্যপদ সম্প্রসারিত করেছে, তবে মানুষের কল্যাণ, সংলাপ ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার উপর গুরুত্ব অটুট রয়েছে।

এস. জয়শঙ্কর বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকনির্দেশনায় ভারত মানবিক ও মানুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্রিকসের সভাপতি পদ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। ভারতের ব্রিকস চেয়ারশিপের মূল থিম— ‘রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কোঅপারেশন ও সাসটেনেবিলিটি গড়ে তোলা’—এই বিশ্বাসের প্রতিফলন যে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান সম্ভব।

লোগো সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, এটি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণ। লোগোর পাপড়িগুলিতে ব্রিকসের সব সদস্য দেশের রং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ঐক্য, বৈচিত্র্য ও যৌথ উদ্দেশ্যের প্রতীক। এই লোগো দেখায়, কীভাবে ব্রিকস সদস্যদের স্বতন্ত্র পরিচয়কে সম্মান জানিয়ে সম্মিলিত শক্তি থেকে প্রেরণা লাভ করে।

তিনি আরও জানান, নবনির্মিত ব্রিকস ইন্ডিয়া ওয়েবসাইট ভারতের চেয়ারশিপ চলাকালীন একটি সাধারণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বৈঠক, উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যাবে এবং তা স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সহায়ক হবে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এস. জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্ব আজ নানা জটিল ও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং উন্নয়নের ঘাটতি বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলিকে প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যা সংলাপ, সহযোগিতা ও বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ দেখায়।

মকর সংক্রান্তি, লোহরি, মাঘ বিহু ও পঙ্গলের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, যেমন এই উৎসবগুলি আশা, নবীকরণ ও সৌহার্দ্যের প্রতীক, তেমনই ভারতের ব্রিকস চেয়ারশিপও সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক কল্যাণে অবদান রাখবে।

তিনি জানান, ভারতের চেয়ারশিপের চারটি প্রধান অগ্রাধিকার—রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কোঅপারেশন ও সাসটেনেবিলিটি—রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক, এবং সাংস্কৃতিক ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ—এই তিনটি মূল স্তম্ভের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রেজিলিয়েন্স স্তম্ভের আওতায় ভারত কৃষি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা, জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা জোরদার করতে চায়। উদ্ভাবন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নয়নশীল দেশগুলির সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। স্টার্ট-আপ, এমএসএমই ও নতুন প্রযুক্তিতে সহযোগিতা আরও ন্যায্য বিশ্ব গঠনে সহায়ক হবে।

পরিশেষে তিনি বলেন, ভারত জলবায়ু মোকাবিলা, পরিচ্ছন্ন শক্তির প্রসার এবং জাতীয় বাস্তবতার প্রতি সংবেদনশীল থেকে টেকসই উন্নয়নের পথকে এগিয়ে নিতে সমান গুরুত্ব দেবে।

Leave a Reply