স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর সাউথ ব্লক থেকে সরে নতুন ঠিকানায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, নামকরণ ‘সেবাতীর্থ’

নয়াদিল্লী, ১২ জানুয়ারি : স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর প্রথমবারের মতো সাউথ ব্লক থেকে সরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও) নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হতে চলেছে। সেন্ট্রাল ভিস্তার ‘এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ’-এ নতুন এই দপ্তরটির নামকরণ করা হয়েছে ‘সেবাতীর্থ’।

সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই নতুন দপ্তরে স্থানান্তরিত হতে পারেন। এই কমপ্লেক্সে মোট তিনটি ভবন রয়েছে, যেগুলির মধ্যে একটি হল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ‘সেবাতীর্থ-১’, বাকি দুটি ভবন হল ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের দপ্তর, যা যথাক্রমে ‘সেবাতীর্থ-২’ এবং ‘সেবাতীর্থ-৩’ নামে পরিচিত।

নতুন দপ্তরের নামকরণ ‘সেবাতীর্থ’ কেন করা হলো, তা নিয়ে সরকারিভাবে একটি সূত্র জানায় যে, এটি ‘জনসেবা’ বা ‘সেবা’য়ের চেতনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে করা হয়েছে। এই নামের মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্য জনগণের প্রতি সেবা প্রদানের শাশ্বত মানসিকতা তুলে ধরা।

এদিকে, সাউথ ব্লক এবং নর্থ ব্লককে মিউজিয়াম বা সংগ্রহশালায় (যুগ যুগিন ভারত সংগ্রহালয়) পরিণত করার ঘোষণা ইতিমধ্যেই দিয়েছে ভারত সরকার। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে, জাতীয় জাদুঘর এবং ফ্রান্সের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নতুন মিউজিয়ামে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জাতির অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা প্রদর্শিত হবে। এর মাধ্যমে ভারতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, জাতির সংগ্রাম এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।

এছাড়া, সাউথ ব্লক এবং নর্থ ব্লকের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রক্ষা করে, নতুন সরকারী প্রকল্পের মাধ্যমে এটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় একটি কেন্দ্র হয়ে উঠবে, যেখানে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের চমৎকার সংকলন থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নতুন ঠিকানা এবং দেশের ঐতিহাসিক সরকারি ভবনগুলির পরিবর্তনের এই উদ্যোগ ভারত সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন করে সাজাতে সহায়ক হবে।

Leave a Reply