শিমুলতলীতে হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে বাধা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস

কুমারঘাট, ১১ জানুয়ারি :
ফটিকরায় থানাধীন শিমুলতলী এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ হিংসা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব—এমনই অভিযোগ উঠেছে।

আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পৌঁছান কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা তথা বিধায়ক বিরজীৎ সিনহা এবং ঊনকোটি জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোঃ বদরুজ্জামান। অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলা ও পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার সময় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল শিমুলতলী এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাধিক বসতবাড়ি, দোকানপাট ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে বহু পরিবার ঘরছাড়া হন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে।

এই প্রেক্ষাপটে আজ সকালে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে কংগ্রেস নেতৃত্বকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টিকে “গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ” বলে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছেন বিরজীৎ সিনহা। তিনি বলেন,
“হিংসার শিকার সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা বলাই যদি অপরাধ হয়, তাহলে রাজ্যে গণতন্ত্র বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। প্রশাসন কার স্বার্থে সত্য আড়াল করতে চাইছে—সেই প্রশ্ন উঠছেই।”

ঊনকোটি জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোঃ বদরুজ্জামানও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু পরিবারগুলো আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অথচ তাঁদের পাশে দাঁড়াতে গেলে কংগ্রেসকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এটা শুধু দুঃখজনক নয়, ভয়ঙ্কর ইঙ্গিতবাহী।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—হিংসা কবলিত এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রবেশে বাধা দিয়ে প্রশাসন কী আড়াল করতে চাইছে? ক্ষতিগ্রস্তদের কণ্ঠ কি ইচ্ছাকৃতভাবেই রুদ্ধ করা হচ্ছে?

শিমুলতলীতে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তার নামে কড়া পুলিশি পাহারা থাকলেও সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরেনি। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও ভূমিকা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন।

______

Leave a Reply