তেহরান, ৯ জানুয়ারি: ইরানে চলমান গণপ্রতিবাদে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাওয়ার পর প্রশাসন দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে, যা “ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট” হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানালেও, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের মধ্যে তা ভেসে যেতে দেখছে প্রতিবাদীরা।
গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে ইরানে চলমান বিক্ষোভ গত দেড় সপ্তাহ ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৭ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানদারদের বিক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এখন দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রতিবাদ সশস্ত্র রাজনৈতিক বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই।
বিক্ষোভের তীব্রতার সঙ্গে সঙ্গে ইরান সরকার যোগাযোগের সকল মাধ্যম বিচ্ছিন্ন করে দেয়। বৃহস্পতিবার নতুন করে প্রতিবাদ ওঠার পর, তেহরান ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেয় এবং তাবরিজ় বিমানবন্দরে বিমান চলাচলও বন্ধ করে দেয়। এর ফলে পুরো দেশ কার্যত তথ্যের দিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে রেজা পাহলভি ইরান সরকারের কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করে লেখেন, “লাখ লাখ ইরানবাসী স্বাধীনতার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন, কিন্তু সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল, যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া।” তিনি ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে তার প্রশংসা করেছেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলিকে নীরবতা ভাঙতে আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারি দমননীতির জেরে পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। সেনা এবং পুলিশি অভিযানগুলোতে এখনও পর্যন্ত ৩৬ জন প্রতিবাদীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শাসকদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি ইরান তাদের নাগরিকদের মারতে শুরু করে, আমরা তাদের উপর খুব কঠিন আঘাত হানব।”
ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুঁশিয়ারির পর, ইরান কিছুটা সুর নরম করার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র তাদের উপর কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য। তবে, এটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
ইরানের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে এবং সারা বিশ্বে এর প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

