আগরতলা, ৪ জানুয়ারি: ত্রিপুরা রাজ্যের হয়ে বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় দিল্লি যাচ্ছে উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার কদমতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেয়ে সঞ্চিতা নাথ (২২)। পিতা শঙ্কর কান্তি নাথ হতদরিদ্র দিনমজুর ও মা আদরিনি নাথের অক্লান্ত চেষ্টায় মেয়ে আজ রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করছে।
মূলত মিনিস্ট্রি অফ স্পোর্টস এন্ড ইয়ুথ অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের উদ্যোগে ইয়ুথ ফেস্টিভাল ২০২৬ এ প্রথমে জেলা ভিত্তিক ও পরে রাজ্য ভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব করে সঞ্চিতা।আর সব গুলিতেই প্রথম হয়। পরবর্তীতে জাতীয় স্তরে ত্রিপুরার হয়ে প্রতিনিধিত্বের ডাক পায় সঞ্চিতা।
সঞ্চিতা নাথ জানান, ইয়ুথ ফেস্টিভাল ২০২৬ এ দিল্লির ভারত মন্ডপমে ৬/৭ টি ইভেন্টে প্রতিনিধিত্ব করছে রাজ্যের প্রায় ৪০ জন প্রতিনিধি। তার মধ্যে রয়েছে, বক্তৃতা, আর্ট, গান সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতা। তিনি আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই প্রতিযোগিতা। যে প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সঞ্চিতা আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী এই প্রতিযোগিতার নাম দিয়েছেন বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার ডায়লগ। তিনি জানান,পূর্বে ন্যাশনাল ইউথ পার্লামেন্ট ফেস্টিভালে দিল্লিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাছাড়া ইয়ুথ ফেস্টিভাল মহারাষ্ট্রের নাসিকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার ইভেন্ট ছিল একটাই বক্তৃতা প্রতিযোগিতা।
এদিকে প্রান্তিক গ্রামের মেয়ে সঞ্চিতা নাথের এই সাফল্যে এগিয়ে এসেছে কদমতলা কুর্তি মন্ডল যুব মোর্চা। যুব মোর্চার উদ্যোগে সঞ্চিতা নাথকে সংবর্ধনা জানিয়ে তার আগামী দিনগুলির জন্য শুভেচ্ছা ও সাফল্য কামনা করেন মন্ডল যুব মোর্চার নেতৃত্বরা। উপস্থিত ছিলেন যুব মোর্চার মন্ডল সভাপতি অমিতাভ নাথ ইকবাল হোসেন, অরিজিৎ নাথ সহ অন্যান্যরা।
যুব মোর্চার মন্ডল সভাপতি অমিতাভ নাথ জালান, হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ের এই সাফল্যে গোটা কদমতলা সহ ত্রিপুরার মানুষ আজ গর্বিত। সঞ্চিতা ছোটবেলা থেকেই গান নাচ বক্তৃতা ইত্যাদিতে সে দক্ষতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে।দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে যুব সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন তার উদাহরণ সঞ্চিতা।
জানা গেছে, পাঁচ জানুয়ারি আগরতলা থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে পারি দেবে সঞ্চিতা সহ বাকি প্রতিযোগিরা। তার আগে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা সহ মন্ত্রী টিংকু রায় সকল প্রতিযোগীদের সাথে দেখা করবেন। গ্রামের মেয়ে সঞ্চিতা নাথের এই সাফল্যে শুধু কদমতলা এলাকায় খুশির লহর ছড়িয়েছে তা নয় গোটা ত্রিপুরা জুড়ে তার এই সাফল্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে।

