ঢাকা, ৩ জানুয়ারি : দীপু দাসের পরে বাংলাদেশে ফের আরেকটি সংখ্যালঘু নাগরিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটল। শরিয়তপুর জেলার তিলোই গ্রামে উন্মত্ত জনতার হাতে প্রাণ হারালেন খোকন দাস, বছর পঞ্চাশের এই ব্যবসায়ী। গত ৩১ ডিসেম্বর তার ওপর হামলা চালিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় স্থানীয় একদল লোক। প্রাণে বাঁচতে খোকন পুকুরে ঝাঁপ দিলেও গুরুতর বার্ন ইনজুরির কারণে হাসপাতালেই মারা যান তিনি।
খোকন দাস স্থানীয় একটি ওষুধের দোকান চালাতেন। গত ৩১ ডিসেম্বর দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাকে ঘিরে ধরে একদল ব্যক্তি। সেখানে চলে বেধড়ক মারধর, ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো এবং পরে গায়ে আগুন দেয়। হামলার পরে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। খোকন পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যান, তবে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। চার দিন লড়াই করার পর শনিবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
খোকনের স্ত্রী সীমা দাস জানান, তার স্বামী দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন, তখনই হামলার শিকার হন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা জানি না কারা এই নির্মমতা করেছে, কিন্তু আমরা বিচার চাই। আমার স্বামী একজন সাদাসিধে মানুষ ছিলেন, তিনি কারো ক্ষতি করেননি।’’ সীমা দাস আরও জানান, খোকন মৃত্যুর আগে দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছিলেন এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। তিনি সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন।
এই ঘটনার পরে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ৩০ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির খুনের পর, দেশে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। এর পরের দিনই ময়মনসিংহে একই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, যেখানে শ্রমিক দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং তার দেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা এপার বাংলাও শিউরে ওঠার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এই ধরনের আক্রমণগুলি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে, এবং সরকারকে এসব ঘটনার তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

