নথিভুক্ত ২,৯০০ ঘটনা, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা উপেক্ষা করা যায় না: ভারত

নয়াদিল্লি, ২৬ ডিসেম্বর : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান “অব্যাহত শত্রুতা” নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। শুক্রবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। পাশাপাশি হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধসহ সংখ্যালঘুদের ওপর চরমপন্থীদের হাতে যে অব্যাহত সহিংসতা চলছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রত্যাশা করি।

তিনি ১৮ ডিসেম্বরের ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি জনতা পিটিয়ে হত্যা করে। রাজবাড়ীতে এক হিন্দু ব্যক্তিকে জনতার হাতে হত্যার বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান সুস্পষ্ট ও সুপরিচিত।

জয়সওয়াল আরও জানান, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে স্বাধীন সূত্র অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ২,৯০০টিরও বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলের মতো ঘটনাও রয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলোকে কেবল মিডিয়ার অতিরঞ্জন বা রাজনৈতিক সহিংসতা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রায়ই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা সংক্রান্ত ভারতের অভিযোগকে অতিরঞ্জিত সংবাদ বা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভে ভারতবিরোধী স্লোগান ও বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। এ প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে যে ভ্রান্ত বর্ণনা তুলে ধরা হচ্ছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি। কিছু ছাত্রনেতা ও রাজনীতিক প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন যে হত্যাকারীরা ভারতে পালিয়ে গেছে, যদিও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, তারা হামলাকারীদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সে দেশের সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে জয়সওয়াল বলেন, ভিন্ন কোনো দিক নির্দেশ করে বর্ণনা তৈরি করা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এদিকে, বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে ভারতের অবস্থানের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় এবং দেশটিতে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অবাধ নির্বাচনের পক্ষে রয়েছে।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের অর্থ হলো সব দল ও মতাদর্শের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।