কলকাতা, ২৬ ডিসেম্বর: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে জুলাই ২০২৫-এর পর যে সব ডোমিসাইল (বাসিন্দা) সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলি এবার নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরদারির আওতায় আসছে। খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি শুনানির সময়, যা শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে, ওই ডোমিসাইল সার্টিফিকেটগুলি পরিচয়পত্র হিসেবে জমা পড়লে সেগুলির যথার্থতা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)।
এর আগেই নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) এবং তাঁদের অধীনস্থ নির্বাচনী আধিকারিকরা ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের জমা দেওয়া ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের সত্যতা যাচাই করেন। ‘আনম্যাপড’ ভোটার বলতে সেইসব ভোটারকে বোঝানো হচ্ছে, যাঁদের সঙ্গে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার কোনও যোগসূত্র নেই না ‘সেলফ ম্যাপিং’-এর মাধ্যমে, না ‘প্রোজেনি ম্যাপিং’-এর মাধ্যমে।
সিইও দফতর সূত্রে জানা গেছে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট যাচাই করা হবে মূলত দু’টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে। প্রথমত, সার্টিফিকেটটি আসল না নকল। দ্বিতীয়ত, যাঁকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, তিনি আদৌ পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত ও যোগ্য বাসিন্দা কি না।
এছাড়াও, শুনানি পর্বে জমা পড়া ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে দু’স্তরের যাচাই ব্যবস্থা থাকবে। প্রথম স্তরে যাচাই করবেন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও), এবং দ্বিতীয় স্তরে তা খতিয়ে দেখবেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (ডিইও)।
শুনানি পর্বের জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফে নিযুক্ত মাইক্রো অবজারভারদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পরিচয়পত্র হিসেবে জমা পড়লে তা বিশেষভাবে নজরে রাখেন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
সিইও দফতর সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, “বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিযোগের পরই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগ ছিল, রাজ্য প্রশাসন যথাযথ পটভূমি যাচাই না করেই নির্বিচারে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু করছে।”
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে অতীতে একাধিকবার সরব হয়েছেন। তিনি রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
শনিবার থেকে দাবি ও আপত্তি সংক্রান্ত শুনানি শুরু হবে। শুনানি পর্ব শেষ হওয়ার পর জমা দেওয়া নথিগুলির পর্যালোচনা করা হবে। আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তার পরেই পশ্চিমবঙ্গে আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

