নয়াদিল্লি/নোয়ডা, ১৮ ডিসেম্বর: খ্যাতনামা ভাস্কর রাম ভাঞ্জি সুতার আর নেই। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের নোয়ডায় নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই প্রখ্যাত শিল্পী।
রাম ভাঞ্জি সুতার বিশ্বে পরিচিত গুজরাটের কেভাডিয়ায় নির্মিত বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তি ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-র রূপকার হিসেবে। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাম সুতার ছিলেন এক অসাধারণ ভাস্কর, যাঁর সৃজনশীল দক্ষতায় ভারত পেয়েছে একাধিক আইকনিক স্থাপনা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর শিল্পকর্ম ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমষ্টিগত চেতনাকে শক্তিশালীভাবে প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতেও শিল্পী ও সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।
১৯২৫ সালে বর্তমান মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলায় জন্মগ্রহণ করেন রাম ভাঞ্জি সুতার। মুম্বইয়ের জে. জে. স্কুল অব আর্ট অ্যান্ড আর্কিটেকচার থেকে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত ধ্যানমগ্ন ভঙ্গিতে বসে থাকা মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি এবং ঘোড়ায় আরোহী ছত্রপতি শিবাজির ভাস্কর্য তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়। শিল্পক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৯৯ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০১৬ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হন। সম্প্রতি তাঁকে মহারাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজ্য সম্মান ‘মহারাষ্ট্র ভূষণ পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।
রাম ভাঞ্জি সুতারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এই প্রয়াণ ভারতীয় শিল্পজগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। অমিত শাহ আরও জানান, অজন্তা ও ইলোরা গুহার ভাস্কর্য পুনরুদ্ধারে রাম সুতারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর সৃষ্টি করা ঐতিহাসিক ভাস্কর্যগুলি নতুন প্রজন্মের কাছে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে স্মরণীয় করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

