উত্তর প্রদেশে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, তথ্য প্রকাশের দাবি অখিলেশ যাদবের

নয়াদিল্লি, ৫ ডিসেম্বর: উত্তর প্রদেশে ভোটার তালিকার চলমান স্পেশাল সামারি রিভিশন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপের অভিযোগ তুলে বৃহত্তর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। শুক্রবার ‘এক্স’–এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক সরাসরি দাবি তুলে ধরেন।

যাদব লেখেন, উত্তর প্রদেশে-তে সার-এর কত শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এই তথ্য আজই প্রকাশ করতে হবে। বিএলওদের ওপর প্রাণঘাতী চাপ বন্ধ করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত অনুমোদিত কর্মী নিয়োগ করতে হবে। শাসক দলের কোনও গ্রুপ বা তাদের সহযোগীরা যেন এখন বা ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়ায় গোপনে যুক্ত না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিটি বিধানসভায় পিডিএ সমাজের কত মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং যেকোনও পরিস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।

এসপি প্রধান ও ইন্ডিয়া ব্লক নেতারা অভিযোগ করছেন, এসআইআর নামের এই ‘ভোটার তালিকা পরিশোধন’ প্রক্রিয়ার আড়ালে প্রান্তিক ও বঞ্চিত সমাজের ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আকিলেশ যাদব দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন অনিয়ম চোখে পড়লে তা প্রতিহত করতে, যাতে কোনও প্রকৃত ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।

গত ২৭ নভেম্বর তিনি নিজের এসআইআর ফর্ম পূরণ করে ‘এক্স’-এ ছবি শেয়ার করেন এবং নাগরিকদের একই কাজ করতে উৎসাহিত করেন। যাঁরা অসুবিধায় পড়ছেন, তাঁদেরকে দলের ‘পিডিএ প্রহরী’ টিমের সাহায্য নিতে বলেন তিনি। এই টিম ভোটার যাচাই প্রক্রিয়ায় মানুষকে সহায়তা করছে।

সম্প্রতি তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত বেশ কিছু বিএলওর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করা কর্মকর্তাদের দুরবস্থা তুলে ধরেন। লখনউতে শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এক প্রয়াত বিএলও-র পরিবারকে ২ লক্ষ টাকার চেকও তুলে দেন।

আকিলেশ প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনে এখনও দুই বছর বাকি থাকতে নির্বাচন কমিশন এত তাড়াহুড়ো করে কেন এসআইআর করছে। তার অভিযোগ, কমিশনের এই তৎপরতা বিজেপির সুবিধার্থে কাজ করছে।

বিহারে ইন্ডিয়া ব্লকের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন সত্ত্বেও উত্তর প্রদেশে জোট অটুট রয়েছে বলে পুনরায় নিশ্চিত করেন এসপি প্রধান। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট রাজ্যের ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক নজরদারি বাড়ছে এবং স্বচ্ছতা এখন অত্যন্ত জরুরি।