জাতীয় ঐক্যের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনসংখ্যাগত পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সতর্ক করে বলেছেন, দেশের ঐক্যকে বহিরাগত শক্তি ও অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে হুমকির মুখে ফেলেছে, তবে আজকের দিনে আরও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, যা সামাজিক সমতা ও ঐক্যকে দুর্বল করছে।

আজ রাজধানী নয়াদিল্লিতে জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের প্রাণ হচ্ছে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। কিন্তু জাতপাত, ভাষা, আঞ্চলিকতা ও চরমপন্থী চিন্তার কারণে যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে, তা যদি রোধ না করা যায়, তবে দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে।”

মোদি বলেন, “সামাজিক সমতা মানে হলো বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দিয়ে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করা। আজ আমাদের সামনে এমন সব সংকট দেখা দিচ্ছে, যা সরাসরি আমাদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তাকে আক্রমণ করছে। চরমপন্থী চিন্তাভাবনা, আঞ্চলিকতাবাদ, জাতপাতের বিভাজন, ভাষা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং বহিরাগত শক্তির প্ররোচনা—এসবই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভারতের শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে নিহিত, “এই নীতি ভেঙে গেলে দেশের শক্তিও ভেঙে পড়বে।” প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক সমতা রক্ষা ও শক্তিশালী করার দায়িত্ব আজ সবচেয়ে বড়, কারণ এটি অনুপ্রবেশের চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন।

এ প্রসঙ্গে মোদি জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ শান্তির সঙ্গে যুক্ত এই সংকট মোকাবিলার জন্যই তিনি লালকেল্লা থেকে ‘ডেমোগ্রাফিক মিশন’ ঘোষণা করেছেন। তিনি দেশবাসীকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সজাগ ও নিবেদিত থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজকের সংগ্রামগুলোও ভিন্ন প্রকৃতির—“অর্থনৈতিকভাবে অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা আমাদের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র। আমাদের জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলে দেওয়ারও ষড়যন্ত্র চলছে।” তবে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, সরকার দ্রুততার সঙ্গে এসব চ্যালেঞ্জ ও সংগ্রামের মোকাবিলা করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রা প্রকাশ করেন। মোদি জানান, “১০০ টাকার মুদ্রার এক পাশে জাতীয় প্রতীক এবং স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অন্য পাশে সিংহাসনে আসীন ভরত মাতা, সামনে প্রণামরত স্বয়ংসেবকরা। পাশাপাশি বিশেষ ডাকটিকিটও প্রকাশিত হয়েছে, যাতে ১৯৬৩ সালের প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণরত আরএসএস স্বয়ংসেবকদের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।”