গুজরাটের অনামী রাজনৈতিক দলগুলো কোথা থেকে ৪৩০০ কোটি পেল? নির্বাচন কমিশন কি তদন্ত করবে, নাকি আবার এফিডেভিট চাইবে? প্রশ্ন রাহুলের

আহমেদাবাদ, ২৭ আগস্ট : লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী গুজরাটে ১০টি অনামী রাজনৈতিক দলের পাওয়া ৪৩০০ কোটি চাঁদা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন কি এখন তদন্ত করবে, নাকি আমার কাছে এফিডেভিট চাইবে?

রাহুল গান্ধী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লেখেন, গুজরাটে কিছু এমন রাজনৈতিক দল আছে, যাদের নাম কেউ শোনেনি। কিন্তু তারা ৪৩০০ কোটি চাঁদা পেয়েছে। এই দলগুলো খুবই কম নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং খরচও খুব সামান্য দেখিয়েছে।

তাঁর আরও প্রশ্ন, এই হাজার হাজার কোটি টাকা এল কোথা থেকে? এই দলগুলোকে চালাচ্ছে কে? টাকা গেছে কোথায়? নির্বাচন কমিশন কি তদন্ত করবে, নাকি শুধু একটা এফিডেভিট নিয়ে দায় সেরে নেবে? না কি আইনই বদলে দেবে যাতে তথ্য গোপন রাখা যায়?

২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে গুজরাটে নথিভুক্ত হওয়া ১০টি অনামী রাজনৈতিক দল চাঁদা হিসেবে পেয়েছে মোট ৪৩০০ কোটি টাকা। অথচ এই সময়ে মাত্র ৪৩ জন প্রার্থী তারা নির্বাচনে দাঁড় করায় এবং মোট ৫৪,০৬৯ ভোট পায়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাদের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, তারা মাত্র ৩৯.০২ লাখ নির্বাচনী খরচ দেখিয়েছে। যদিও অডিট রিপোর্টে খরচ দেখানো হয়েছে ৩৫০০ কোটি।

গত ৭ আগস্ট রাহুল গান্ধী ২২ পৃষ্ঠার প্রেজেন্টেশন দিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, ভোট চুরি হচ্ছে এবং আমাদের কাছে প্রমাণ আছে যে নির্বাচন কমিশন এই চুরির সাথে যুক্ত। তারা বিজেপির হয়ে কাজ করছে।

পাল্টা জবাবে, ৮ আগস্ট নির্বাচন কমিশন রাহুল গান্ধীর কাছে তাঁর অভিযোগের পক্ষে এফিডেভিট চেয়ে পাঠায়। কমিশনের বক্তব্য ছিল, অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে রাহুলকে তা হলফনামা আকারে জমা দিতে হবে, নচেৎ জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর রিপোর্টে প্রকাশ, ২০২২-২৩ সালে দেশের নিবন্ধিত অ-স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর আয় বেড়েছে ২২৩%। দেশে মোট ২৭৬৪টি অ-স্বীকৃত দল রয়েছে, যার মধ্যে ৭৩% দলই আর্থিক হিসাব জনসমক্ষে আনে না।

বর্তমানে রাহুল গান্ধী ১৬ দিনের ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’-তে রয়েছেন বিহারে। এই যাত্রা ১৩০০ কিমি পথ অতিক্রম করে ২০টি জেলা ঘুরে ১ সেপ্টেম্বর পাটনায় শেষ হবে। কংগ্রেস ও আরজেডি নেতারা এই যাত্রায় নির্বাচন তালিকায় গড়মিল এবং ভোট চুরির অভিযোগ তুলে ধরেছেন।