News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসে জেলা সভাপতি ঘোষণা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, পদত্যাগ ও প্রতিবাদে উত্তাল দল
Image

মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসে জেলা সভাপতি ঘোষণা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, পদত্যাগ ও প্রতিবাদে উত্তাল দল

ভোপাল, ১৭ আগস্ট: মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পদের বহু প্রতীক্ষিত তালিকা প্রকাশের পরই দলীয় অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। শনিবার প্রকাশিত ৭১ জন জেলা সভাপতির নাম ঘিরে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ, পদত্যাগ ও ক্ষোভের ঝড়। ভোপাল, ইন্দোর, উজ্জয়িন, বুরহানপুর থেকে শুরু করে একাধিক জেলায় দলের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।

এই তালিকায় ৬ জন বর্তমান বিধায়ক, ৮ জন প্রাক্তন বিধায়ক এবং ৩ জন প্রাক্তন মন্ত্রীকে জেলা স্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এতে তৃণমূল স্তরের নেতাদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাঘোগড়ে। সেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংয়ের পুত্র ও প্রাক্তন মন্ত্রী জয়বর্ধন সিং-কে গুনা জেলার সভাপতি পদে নিয়োগকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁর অনুগামীরা। তাঁরা রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটওয়ারির কুশপুতুল দাহ করেন ও স্লোগান তোলেন, দাবি করেন জয়বর্ধনের ‘মর্যাদা খর্ব’ করা হয়েছে।

ভোপালে প্রবীণ সাক্সেনাকে আবার জেলা সভাপতি করায় অখুশি মনু সাক্সেনা, যিনি নিজেও পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বকে রাহুল গান্ধীর ‘তাজা নেতৃত্ব তৈরির ডাক’ উপেক্ষা করার অভিযোগ করেন।

ইন্দোরেও নতুন শহর সভাপতি চিন্টু চৌকসী ও জেলা সভাপতি বিপিন ওয়াঙ্কেড়ের নিয়োগের বিরোধিতা করছেন একাধিক নেতা। মহিলা শাখার প্রাক্তন নেত্রী সাক্ষী শুক্লা ডাগা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকাশ্যে।

উজ্জয়িন (গ্রামাঞ্চল)-এ মহেশ পরমারের নিয়োগ, এবং সাতনায় সিদ্ধার্থ কুশওয়াহার নিয়োগ ঘিরেও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বুরহানপুরে প্রবীণ নেতা অরুণ যাদবের সমর্থকরা বৈঠকে বসেছেন—তাঁদের প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ায় হতাশ।

বিক্ষোভের জেরে ইতিমধ্যেই একাধিক পদত্যাগের খবর এসেছে। হেমন্ত পাতিল, রাজীব গান্ধী পঞ্চায়েত সেলের জেলা সভাপতি, প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন।

প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ২১ জন পুরনো সভাপতিকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৭১ জনের তালিকায় ৩৭ জন সংরক্ষিত শ্রেণির প্রতিনিধি। এর মধ্যে ৩৫ জন সাধারণ, ১২ জন ওবিসি, ১০ জন তফসিলি উপজাতি (এসটি), ৮ জন তফসিলি জাতি (এসসি), ৪ জন মহিলা ও ৩ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর তত্ত্বাবধানে হলেও, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ এখনও প্রভাবশালী। অন্তত ১০ জন কমল নাথ ঘনিষ্ঠ নেতা তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।

ওমকার সিং মারকম, জয়বর্ধন সিং, নিলয় ডাগা, প্রিয়ব্রত সিং-এর মতো বড় নাম তালিকায় থাকলেও, এই রদবদল সংগঠনের মধ্যে বিদ্বেষ ও বিভাজন আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সংগঠনের ঐক্য প্রদর্শনের বদলে এই পদক্ষেপে মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস নতুন করে অন্দরের বিদ্রোহ ও অসন্তোষের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন সময়ই বলবে।

Releated Posts

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত: বিদেশ মন্ত্রক

নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর(আইএএনএস) : বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত আগ্রহী। একই সঙ্গে বিদ্যমান…

ByBySandeep Biswas Sep 22, 2026

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদার নিয়ে ভারত-জাপান আলোচনা

নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার, যৌথ মহড়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার…

ByByNews Desk Sep 22, 2026

ভারত ও ওপেকের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদারে ঐকমত্য

নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলির সংগঠন ওপেক জ্বালানি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার…

ByByNews Desk Sep 22, 2026

পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত ভারত-নরওয়ের

অসলো, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পরিবেশ ও জলবায়ু ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল ভারত ও নরওয়ে।…

ByByNews Desk Sep 22, 2026
Scroll to Top