বাপাটলা, ৩ আগস্ট : অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাটলা জেলার সত্রকৃষ্ণ গ্রানাইট খনিতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৬ জন ওড়িশা থেকে আসা শ্রমিক নিহত এবং ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার ভোরে, যখন এক বিশাল পাথরের অংশ খনি থেকে ধসে পড়ে। ঘটনাটি বল্লিকুরভা গ্রামে সত্রকৃষ্ণ গ্রানাইট খনিতে ঘটেছিল, যা প্রাথমিকভাবে একটি বড় ধরনের রক স্লাইড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় খনির ভেতরে মোট ১৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে ৬ জন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর, ১০ জন শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় মাটির তলে চাপা পড়ে যান। প্রাথমিক উদ্ধার কাজ চালিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু দুজন শ্রমিক এখনও মাটির তলায় আটকা পড়ে আছেন, তাদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে।
আহত শ্রমিকদের দ্রুত স্থানীয় নরসারোপেট সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, বেশ কয়েকজন শ্রমিকের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক এবং তাদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন, এবং কিছু শ্রমিকের শরীরের বিভিন্ন অংশে ভাঙাচূড়া ও আঘাত রয়েছে।
বাপাটলা জেলা পুলিশ সুপার তুষার দুড়ি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া পাথরের তলায় আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য দ্রুত কাজ করছেন। তবে খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ এটি একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা এবং ভবিষ্যতে এরকম দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, সত্রকৃষ্ণ গ্রানাইট খনিতে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না, যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। অনেক শ্রমিকই অভিযোগ করেছেন যে, তারা তেমন কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া কাজ করছিলেন, এবং খনি কর্তৃপক্ষের তরফে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা সুরক্ষা সরঞ্জামও প্রদান করা হয়নি।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নারা চন্দ্রবাবু নায়ডু দুর্ঘটনার ব্যাপারে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি দুর্ঘটনার কারণ জানতে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং খনির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “এই দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি আশা করি, তদন্তের মাধ্যমে আসল কারণ স্পষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনেক সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। শ্রমিক সংগঠনগুলি দাবি করেছে যে, খনিতে শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত, এবং তাদের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান নীতির ব্যবস্থা করা উচিত।
এই দুর্ঘটনা সত্ত্বেও, খনি সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি ও বেসরকারি খনি কর্তৃপক্ষের কাছে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে না পারে।

