মেঘভেঙ্গে হিমাচলের মান্ডিতে প্রবল বর্ষণে বিপর্যয়, মৃত ২, নিখোঁজ ২; ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

মান্ডি, ২৯ জুলাই : হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলায় টানা মেঘভাঙ্গা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মঙ্গলবার দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার রাত ১১টা থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ মঙ্গলবার ভোরের দিকে আরও তীব্র হয়ে ওঠে। যার জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুক্কু মান্ডির জেল রোডে মেঘভাঙা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে একটি ছিল মান্ডির জোনাল হাসপাতাল। ড্রেন উপচে পড়ায় হাসপাতাল চত্বর জলে ভরে যায়, ফলে হাসপাতালের মূল প্রবেশপথ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। মান্ডি জেলার একাধিক অভ্যন্তরীণ রাস্তায় ভূমিধসের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে আটকে পড়েছেন। চণ্ডীগড়-মানালি জাতীয় সড়ক (এনএইচ-৩) মান্ডি ও কুল্লুর মধ্যবর্তী বহু জায়গায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বহু গাড়ি দীর্ঘ যানজটে আটকে রয়েছে।

হিমাচল প্রদেশ স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এবং স্টেট এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, ২৮ জুলাই সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে প্রায় ২০০টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। ৬২টি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়েছে এবং ১১০টি জল সরবরাহ প্রকল্পে বিঘ্ন ঘটেছে।

চলতি বর্ষা মরসুমে ২০ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন সরাসরি বৃষ্টিজনিত বিপর্যয় যেমন ভূমিধস, হড়পা বান, মেঘভাঙা, ডুবে যাওয়া ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণে। বাকি ৭৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে ৩২ জন মৃত নিয়ে মান্ডি শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে কাংরা (২৪) ও চাম্বা (১৭)। এসডিএমএ জানিয়েছে, ২০ জুন থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৪২টি হড়পা বান, ২৫টি মেঘভাঙা এবং ৩২টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

বৃষ্টি-সম্পর্কিত মৃত্যুর দিক থেকে মান্ডি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর কাংরা (১৭), কুল্লু (১০) এবং চাম্বা (৮)। এছাড়া ২৫১টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১,১৬৫টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মান্ডির জেল রোডে মেঘভাঙা ঘটনার পরে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চলছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, মান্ডির জেল রোডে মেঘভাঙার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি চালাচ্ছে। বহু গাড়ি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।

তিনি বলেন, প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য অবিলম্বে প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ত্রাণকাজে সহায়তা করা স্থানীয়দের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। রাজ্য সরকার এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলুন ও সতর্ক থাকুন।