বিলোনীয়া, ২৫ জুলাই : পাচার বাণিজ্য প্রতিরোধে বিএসএফের গুলি দুই বাংলাদেশি পাচারকারীর মৃত্যু হয়েছে। আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছে। ভারতীয় পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। বিলোনিয়া থানার অন্তর্গত আমজাদ নগর সীমান্তে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে। সীমান্তে টহলদারি জোরদার করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাত প্রায় এগারোটার দিকে বিএসএফ-এর ৪৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের ই কোম্পানির জওয়ানরা সীমান্ত পিলার ২১৬৪/১৩-এস-এর কাছাকাছি এলাকায় টহল দেওয়ার সময় দেখতে পান কয়েকজন ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশের দিক থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে পাচার সামগ্রী নিয়ে প্রবেশ করছে। চ্যালেঞ্জ করা হলে পাচারকারীরা বিএসএফের উপর ইট-পাথর ছোঁড়ে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।
গুলিতে তিন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে লিটন গাজি (৩২), পিতা- গাছি মিয়া, বাড়ি পরশুরাম থানার বাসপদুয়া এলাকায় — তাকে বিএসএফ জওয়ানরা বিলোনিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত দুজনের মধ্যে মিলিয়াস হুসেনকে ফেনী হাসপাতালে নেবার পথে তার মৃত্যু হয়। তৃতীয় ব্যক্তি অবতাব আলী বর্তমানে চট্টগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে বিএসএফ ১৫ হাজার পাতা নিষিদ্ধ যৌনবর্দ্ধক ট্যাবলেট ও কয়েক কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে। বিলোনিয়া থানার ওসি শিবু রঞ্জন দে পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ হোসেন বলেন, পাচার বাণিজ্যের কারণেই তারা সীমান্ত অতিক্রম করেছিল। বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সীমান্তে একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত।
নিহত অপর ব্যক্তি মো. মিল্লাত (২১), পিতা- মোঃ ইউসুফ, ও আহত মো. আফসার (৩২), পিতা- এয়ার আহমেদ সকলেই বাংলাদেশের বাঁশপদুয়া এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, পতাকা বৈঠকের পর মৃতদেহ বিজিবির হাতে তুলে দেওয়া হবে। সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা রয়ে গেলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

