টঙ্গীবাড়িতে দিনদুপুরে মহিলাকে অজ্ঞান করে সোনার জিনিস লুট, চাঞ্চল্য ধর্মনগরে

ধর্মনগর, ২৫ জুলাই : উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরের টঙ্গীবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে। সরকারি সার্ভের নাম করে এক মহিলার বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে অজ্ঞান করে তাঁর কানের সোনার দুল লুট করে পালিয়ে যায় দুই অজ্ঞাত পরিচয় যুবক। আক্রান্ত মহিলার নাম জবেদা খাতুন। বর্তমানে তিনি ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার জানা গেছে, ঘটনার সময় জবেদা খাতুন বাড়িতে একা ছিলেন। দুপুরবেলা দুই যুবক নিজেদের সরকারি কর্মচারী পরিচয় দিয়ে একটি সরকারি সার্ভে করার অজুহাতে তাঁর বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। প্রথমে বাধা দিলেও, তাদের বারবার চাপ দেওয়ার ফলে শেষমেশ তারা ভিতরে ঢুকে পড়ে। বাড়িতে ঢুকেই এক যুবক আচমকাই জবেদা খাতুনের মুখে অজানা ধরণের এক পাউডারজাতীয় কিছু স্প্রে করে দেন, যার ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। প্রায় ২০-৩০ মিনিট পর জ্ঞান ফিরতেই আতঙ্কিত জবেদা খাতুন চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে, জ্ঞান ফিরে আসার পর জবেদা খাতুন দেখতে পান, তাঁর কানের একজোড়া সোনার দুল নেই। পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ, ওই দুই যুবকই দুল লুট করে পালিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে—এই দুই যুবকই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। ধর্মনগর থানায় ইতিমধ্যেই একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটির তদন্ত জোরদারভাবে শুরু হয়েছে এবং এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

ধর্মনগর থানার এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অভিযুক্তদের সনাক্তকরণে তৎপরতা চলছে। খুব শিগগিরই দোষীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। এলাকাবাসীরা জানান, এই ধরনের ঘটনা টঙ্গীবাড়ি এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি। সম্প্রতি বিভিন্ন অজুহাতে কিছু অচেনা ব্যক্তি এলাকায় ঘোরাফেরা করছে এবং বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দিন দুপুরে যদি এমন অপরাধ হয়, তাহলে রাতের সময় আমরা কতটা নিরাপদ, প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। আরও এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “এলাকায় পুলিশের টহল বা নজরদারির কোনও উপস্থিতি চোখে পড়ে না। এই ঘটনা প্রশাসনের জন্য একটা বড় সতর্কবার্তা।