বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার অপসারণ চেয়ে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব, দুই শতাধিক বেশি সাংসদের স্বাক্ষর

নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই : বিতর্কিত নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষিতে বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে সংবিধানের ১২৪, ২১৭ ও ২১৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে ইমপিচমেন্ট (অপসারণ) প্রস্তাব জমা দিলেন সংসদের উভয় কক্ষের দুই শতাধিক সাংসদ। লোকসভায় ১৪৫ জন ও রাজ্যসভায় ৬৩ জন সাংসদ এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন।

লোকসভায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে স্বাক্ষর করা সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন, অনুরাগ ঠাকুর, রবিশঙ্কর প্রসাদ, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, রাজীব প্রতাপ রুডি, পিপি চৌধুরি, সুপ্রিয়া সুলে ও কে সি বেনুগোপাল সহ আরও অন্যান্যরা। প্রসঙ্গত, বিচারপতির অপসারণের প্রস্তাব সংসদে পেশ করতে হলে লোকসভায় কমপক্ষে ১০০ জন ও রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। সেই শর্ত পূরণ করে জমা পড়েছে এই প্রস্তাব।

এই প্রস্তাব এখন লোকসভার অধ্যক্ষ বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের বিচারাধীন। তাঁরা এই প্রস্তাব গ্রহণ বা খারিজ যে কোনওটি করতে পারেন। প্রস্তাব গ্রহণ হলে এরপর বিচারপতির বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর আগে কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশ জানান, তাঁদের দল ও ইন্ডি জোট বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবকে পুরোপুরি সমর্থন করছে।

গতকাল কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানিয়েছিলেন, ইতিমধ্যে ১০০-র বেশি সাংসদ বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার অপসারণে স্বাক্ষর করেছেন। এখন সেই সংখ্যাটি ২০০ পেরিয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক চাপ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার নতুন সমীকরণ তৈরি হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, বিরোধীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকার ‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলা নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে। বিরোধী পক্ষের তরফে দাবি করা হয়, আলোচনা যেন আগামীকাল থেকেই শুরু করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আলোচনা হবে প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের বিদেশ সফর শেষে তাঁর দেশে ফেরার পর।