জম্মু ও কাশ্মীরর কুপওয়ারাতে ২০২৩ সালের হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ

নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই : হেফাজতে সহিংসতার বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আজ সকালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জম্মু ও কাশ্মীরর কুপওয়ারার একটি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার-এ ২০২৩ সালে একজন পুলিশ কনস্টেবলকে কথিত নির্যাতনের ঘটনায় সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের এক মাসের মধ্যে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

খুরশীদ আহমদ চৌহান নামের ওই পুলিশ কনস্টেবল, যিনি হেফাজতে নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়েছিলেন, তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের জন্য জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালত সিবিআইকে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে কুপওয়ারা জেআইসি-তে ২৩-২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ এর মধ্যে কথিত হেফাজতে সহিংসতার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

এই সাম্প্রতিক রায় হেফাজতে সহিংসতার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সুরক্ষাকে জোরদার করেছে, যা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। এটি হাইকোর্টের একটি রায়কে বাতিল করে দিয়েছে, যেখানে মি. চৌহানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় (আত্মহত্যার চেষ্টা) অভিযোগ বাতিল করতে অস্বীকার করা হয়েছিল।

ওই কনস্টেবল অভিযোগ করেছিলেন যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুপওয়ারা জেআইসি-তে তাকে অবৈধভাবে কয়েকদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল, যার সময় তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল, এমনকি তার গোপনাঙ্গ বিকৃত করা হয়েছিল।

মি. চৌহানের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিল করে বিচারপতি মেহতা তার রায়ে লিখেছেন যে, ৩০৯ ধারায় (আইপিসি) তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে। আদালত সিবিআইকে কুপওয়ারা জেআইসি-তে “পদ্ধতিগত সমস্যাগুলি” খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে, যা হেফাজতে অপব্যবহারের কারণগুলি মূল্যায়ন করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এই রায় দেশে হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে।