গ্রামীণ জনপদে ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়নে বৈঠক মন্ত্রী বিকাশ দেব্বর্মার

তেলিয়ামুড়া, ২০ জুলাই: ত্রিপুরার প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গ্রামীণ ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার লক্ষ্যে।

তেলিয়ামুড়া আরডি ব্লকের অন্তর্গত মাইগঙ্গা বাজারে দলীয় কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন যুবনেতা সজল নমঃ দাস, এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ, সহজ-সরল জনজাতি নেতৃত্ব এবং দলীয় কর্মীসহ বহু সাধারণ মানুষ। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল – কীভাবে কৃষ্ণপুর এলাকার প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া যায় এবং উচ্চশিক্ষার হার বাড়ানো যায়।

বৈঠকে উঠে আসে, গোটা কৃষ্ণপুর এলাকায় শিক্ষার হার এখনও আশানুরূপ নয়। বহু পরিবারের সন্তানরা আজও শিক্ষার মূল স্রোত থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই উদ্যোগী মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “কোনো জাতি বা সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হল শিক্ষা। ঘরে ঘরে যদি শিক্ষিত সদস্য থাকে, তবে পরিবার ও সমাজ উভয়ের অগ্রগতি নিশ্চিত হয়।”

শুধু শিক্ষার কথা বলেই থেমে যাননি তিনি। এলাকার পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলিও নজরে এনেছেন। মাইগঙ্গা ও আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের একটি বড় কারণ হল তেলিয়ামুড়া রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কষ্টসাধ্য যাত্রা। বর্তমান রাস্তাপথে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে রেলস্টেশনে যেতে হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে খোয়াই নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের বরাদ্দ ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে – এমনটাই জানান মন্ত্রী।
নতুন ব্রিজ নির্মিত হলে মাইগঙ্গা থেকে তেলিয়ামুড়া রেলস্টেশনে পৌঁছাতে সময় ও খরচ উভয়ই কমবে। মাত্র ২ কিলোমিটার পথেই সহজে রেল যোগাযোগ সম্ভব হবে, যা ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষের জন্য এক বিশাল সুবিধা।মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার এই উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি শুধুমাত্র ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করে তোলার পথকেই সুগম করছে না, বরং গোটা অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দ্বার খুলে দিচ্ছে। যুবনেতা সজল নমঃ দাস ও স্থানীয় নেতৃত্বদের সক্রিয় সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফল রূপ পাবে বলে আশাবাদী এলাকাবাসী।