নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ২৮ জুন:
সংস্কৃতির শহর খোয়াই এখন নেশা থেকে শুরু করে মানব পাচারের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শুক্রবার রাতেও এক বাংলাদেশী মহিলাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কল্যানী নামক বেসরকারি গেস্ট হাউস এর মালিকের ভাই অজয় দত্তকে গ্রেফতার করেছে খোয়াই থানার পুলিশ। সাথে আটক করা হয়েছে এই পাচার কাণ্ডে জড়িত এক গাড়ির চালককে। জানা গেছে খোয়াই প্রতিষ্ঠিত কল্যানী নামক ব্যবসায়ী সংস্থা অবাধে বাংলাদেশীদের এপার ওপার পারাপারের মূলচক্র হিসেবে কাজ করছিল। সূত্রের খবর প্রতিনিয়ত বাংলাদেশীদের এপার ওপর যাতায়াতের প্রধান কান্ডারী ছিল কল্যানী নামক সংস্থা।
গত কাল রাতেও গোপন খবর আসে খোয়াই পুলিশের কাছে যে কল্যানী নামক গেস্ট হাউজে সাবিনা আজিজুল মোল্লা নামক এক বাংলাদেশী মহিলা অবৈধভাবে বাংলাদেশ যাবার উদ্দেশ্যে আশ্রয় নেয়। সেই খবর মোতাবেক হানা দেয় খোয়াই ফাঁড়ির পুলিশ। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে রাতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে শনিবার সকালে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা এই বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করলে নড়ে চড়ে বসল খোয়াই ফাঁড়ি এবং খোয়াই পুলিশ। অবশেষে বাংলাদেশী মহিলাকে আটক না করতে পারলেও মালিক এবং গাড়ির চালককে আটক করে পুলিশ। জানা গেছে শনিবার কাক ভোরে কল্যানী ব্যবসায়ী সংস্থার সহযোগীতায় বাংলাদেশে পালিয়ে যায় বাংলাদেশী মহিলা সাবিনা আজিজুল মোল্লা। জানা গেছে শুক্রবার গভীর রাতে সিমনা সীমান্ত এলাকা থেকে গাড়ির চালক সুমন মিয়া নামক এক অবৈধ ভারতীয় নাগরিক তার টি আর ০৪ ই ০৫২২ নাম্বারের গাড়ি করে কল্যানী গেস্ট হাউজে নিয়ে আসে এবং সকালে মহিলাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় কল্যানী গেস্ট হাউজ।
এইদিন সাংবাদিকদের চাপে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে তার সত্যতা প্রমাণিত হয়। দেখা গেছে গেস্ট হাউজের রেজিস্ট্রারের অনেক গুরুত্বপূর্ন পাতা ছিঁড়ে ফেলেছে কল্যানী গেস্ট হাউজ। এবং সব থেকে অবাক করার বিষয় হচ্ছে ১৯ জুনের পর গেস্ট হাউজের রেজিস্টার চেকআপ করেনি ফাঁড়ির পুলিশ। পরবর্তী সময়ে কল্যানী গেস্ট হাউজের মালিকের ভাই অজয় দত্ত এবং এই কাণ্ডে সহযোগী সুমন মিয়া নামক গাড়ির চালককে আটক করেছে পুলিশ। এখন দেখার বিষয় এই ঘটনায় পুলিশ কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

