ধর্মনগর,২৪ জুন : ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। টানা ২১ মাস ধরে চলা এই জরুরি অবস্থার সময় দেশের গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। সংবাদমাধ্যম, বিচার বিভাগ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠরোধ করে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করা হয়েছিল বলে দাবি করেন বিজেপি বিধায়ক বিনয় ভূষণ দাস।
আগামীকাল ২৫ জুন ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করবে ভারতীয় জনতা পার্টি। উত্তর ত্রিপুরার পদ্মপুরে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন পানিসাগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিনয়ভূষণ দাস। উপস্থিত ছিলেন বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক যাদব লাল নাথ এবং উত্তর ত্রিপুরা জেলা বিজেপির সভাপতি কাজল দাস।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত দেশে জরুরি অবস্থা জারি ছিল। সংবিধানের ৩৫২ ধারায় রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ এই জরুরি অবস্থার নির্দেশ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। এই সময়ে নাগরিক অধিকার স্থগিত, বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার, সংবাদমাধ্যমে কঠোর সেন্সরশিপ এবং বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছিল।
তিনি জানান, জরুরি অবস্থার সেই অন্ধকার অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে জনগণকে গণতন্ত্র রক্ষায় সচেতন ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রতি বছর ২৫ জুন দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে বিজেপি। তিনি আরও বলেন, জরুরি অবস্থার সময় দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছিল, যা ভারতের ইতিহাসে চরম অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
প্রসঙ্গত, ২৫ জুন ভারতের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন, কারণ এই দিনেই ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে চিহ্নিত। এই সময়ে নাগরিক অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা এবং বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করা হয়েছিল—যা গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী।
এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্র কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়, বরং জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক। গণতন্ত্রের এই চরম সংকট ও তার থেকে উত্তরণের ইতিহাস ভারতের নাগরিকদের জন্য শিক্ষা ও সচেতনতার বার্তা বহন করে। তাই, ২৫ জুন ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন, যা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রেরণা জোগায়। নিশ্চিতভাবেই, ২৫ জুনের মতো দিন স্মরণে আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য বোঝার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। এই দিনটি শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমাদের প্রত্যেকের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের কথা মনে করিয়ে দেয়। আপনি নিচের উপায়ে আপনার দায়িত্ব বুঝতে ও পালন করতে পারেন। ইতিহাস জানা ও অন্যকে জানানো জরুরি অবস্থার সময় কী ঘটেছিল, কীভাবে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ণ হয়েছিল—এই ইতিহাস জানা এবং অন্যদের জানানো আপনার দায়িত্ব। এতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা নিজের এবং অন্যের মত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান করুন ও রক্ষা করুন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা ও বিরোধী কণ্ঠস্বরের গুরুত্ব বোঝা জরুরি। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি—স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়বিচার—এই মূল্যবোধগুলো নিজের জীবনে ও সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট থাকুন। নিয়মিত ভোটাধিকার প্রয়োগ, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন থাকা, এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা—এগুলো একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য।পরবর্তী প্রজন্মকে গণতন্ত্রের গুরুত্ব ও ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষা দিন, যাতে তারা সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠতে পারে। ২৫ জুনের মতো দিন আমাদের শেখায়—গণতন্ত্র রক্ষা করা কেবল সরকারের নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে, সচেতন ও সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ানোই আপনার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

