পাটনা, ২১ জুন : নির্বাচনের ঠিক আগে বড়সড় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ঘোষণা করল বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। শনিবার তিনি জানান, বিধবা, প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক পেনশনের পরিমাণ ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০০ টাকা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, সামাজিক সুরক্ষা পেনশন প্রকল্পের অধীনে বিধবা, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখন থেকে প্রতি মাসে ১১০০ টাকা পেনশন পাবেন। এই বর্ধিত অর্থ জুলাই মাস থেকেই বিতরণ করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, এই পেনশন এখন থেকে প্রতি মাসের ১০ তারিখে বিতরণ করা হবে, যার ফলে রাজ্যের প্রায় ১.০৯ কোটি নাগরিক উপকৃত হবেন। এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সরকার এপ্রিল থেকে ২ কোটিরও বেশি মহিলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রচার অভিযান শুরু করেছে। যদিও নীতীশ কুমারের সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও সরাসরি নগদ হস্তান্তর প্রকল্প মহিলাদের জন্য ঘোষণা করেনি, তবে লক্ষ্যভিত্তিক বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে।
এদিকে, বিরোধী আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ক্ষমতায় এলে ‘মাই-বহিন মান যোজনা’র অধীনে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে প্রদান করা হবে। বিহার বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে এখন মাত্র চার মাস বাকি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পেনশন বৃদ্ধির ঘোষণা বিরোধীদের প্রতিশ্রুতির পাল্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এতে নীতীশ কুমারের দরিদ্র-সমর্থক ভাবমূর্তি আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এনডিএ-র নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তের জোরালো সমর্থন এসেছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বলেন, পেনশন ১১০০ টাকা করা একটি ঐতিহাসিক ও সহানুভূতিপূর্ণ পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি প্রবীণ, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দিয়েছেন। আর এক উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা বলেন, জনগণ ন্যূনতম ১০০০ টাকার দাবি করছিলেন, সরকার তার থেকেও বেশি দিয়েছে। এটা প্রমাণ করে, আমাদের সরকার কথা রাখে এবং কাজ করে।
জেডিইউ-র এমএলসি নীরজ কুমার কটাক্ষ করে বলেন, নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে পেনশন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তই আমাদের ‘ন্যায়ের সঙ্গে বিকাশ’-এর প্রতিফলন। তেজস্বী যাদব যদি এতই চিন্তিত হন, তাহলে নিজের বিপুল সম্পত্তি বিক্রি করে লালু/তেজস্বী পেনশন যোজনা শুরু করুন।
এই ঘোষণার ফলে বিহার এখন মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও ঝাড়খণ্ডের তালিকায় যুক্ত হল, যেখানে নির্বাচনের আগে কল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলি ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নারী, প্রবীণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে এই ঘোষণা এনডিএ-র ভোটব্যাঙ্ককে আরও সুসংহত করবে বলেই রাজনৈতিক মহলের অভিমত, বিশেষত ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।

