নয়াদিল্লি, ৫ জুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রাক্কালে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ভারতীয় রেলওয়ে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে পরিবহণের পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষিত ‘পঞ্চামৃত’ লক্ষ্যের অংশ, যার লক্ষ্য ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-জিরো কার্বন নিঃসরণ অর্জন।
এক ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রবন্ধে রেলমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় রেলওয়ে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে নেট-জিরো লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি জানান, রেল কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে সড়কপথের পরিবর্তে রেলপথে পণ্য পরিবহণে জোর দিচ্ছে এবং পরিবেশবান্ধব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের ব্যবহার বাড়াচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, “গত এক বছরে ৭০০ কোটিরও বেশি যাত্রী ভারতীয় রেলে ভ্রমণ করেছেন। ভারতীয় রেল শুধু দেশের প্রাণরেখাই নয়, বরং একটি সবুজ ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শকও বটে।”
তিনি আরও জানান, ২০১৩-১৪ সালে যেখানে ভারতীয় রেলে মাল পরিবহণ ছিল এক হাজার মিলিয়ন টন, তা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬১৭ মিলিয়ন টনে। এই অগ্রগতির ফলে ভারতীয় রেল মালবাহী পরিবহণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে ১৪৩ মিলিয়ন টনেরও বেশি কার্বন নিঃসরণ রোধ সম্ভব হয়েছে, যা প্রায় ১২১ কোটি গাছ লাগানোর সমান।
অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, সড়কপথের তুলনায় রেলপথে মাল পরিবহণের খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ কম। এর ফলে গত এক দশকে ৩.২ লাখ কোটি টাকার লজিস্টিক খরচ সাশ্রয় হয়েছে।
রেলমন্ত্রী আরও জানান, শক্তিতে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে ভারতের ৯৯ শতাংশ ব্রডগেজ রেললাইন এখন বিদ্যুতায়িত, ফলে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ভারতীয় রেলওয়ে স্টেশন, কারখানা ও কর্মশালাগুলিতে হরিত শক্তির ব্যবহার করছে এবং রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে যৌথভাবে ট্রেন চলাচলে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াচ্ছে।
শেষে তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, ভারতীয় রেল এই বছরই নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই নেট-জিরো নিঃসরণ লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।

