ওয়াশিংটন, ১০ মে : ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি দুই দেশকেই উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান এবং গঠনমূলক সংলাপ শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই পক্ষের উচিত এখন উত্তেজনা প্রশমনের উপায় খোঁজা এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে সরাসরি যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলক আলোচনার জন্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর পরে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, *“আজ সকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর সঙ্গে ফোনে আলোচনা হয়েছে। ভারত সবসময়ই সংযত ও দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়েছে, এবং সেটিই আমাদের নীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।” এরইমধ্যে রুবিও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। একই বার্তা দেন তিনি—দুই দেশকেই উত্তেজনা কমানোর এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়াতে কার্যকর সংলাপের পথ খুঁজতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থ হওয়ার পর রুবিও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট চান, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হোক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তিনি এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন।”
মার্কিন সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রুবিও প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শরিফ এবং পরে জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি” পুনর্ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত মাসে পাহেলগামে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার এক ছদ্ম সংগঠনের হামলায় ধর্মীয়ভাবে টার্গেট করে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়। তারই জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। এই হামলার পর ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালই প্রথম আন্তর্জাতিক কলটি করেন মার্কো রুবিওকে, যিনি এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন।
