বেইজিং, ৩০ এপ্রিল : উত্তর-পূর্ব চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের লিয়াওয়াং শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে (ভারতীয় সময় ভোর ৪টা ২৫ মিনিট)। রেস্তোরাঁটি একটি আবাসিক এলাকার মধ্যে অবস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা সিসিটিভি। দুর্ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঘটনাটিকে “একটি গভীর শিক্ষণীয় ঘটনা” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দ্রুত আহতদের চিকিৎসা, অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
লিয়াওনিং প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির সচিব হাও পেং জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ২২টি দমকলের ইঞ্জিন ও ৮৫ জন দমকল কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চীনা সোশ্যাল মিডিয়া Douyin এবং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম X-এ ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি দোকানের সম্মুখভাগ থেকে তীব্র কমলা রঙের শিখা বেরিয়ে আসছে এবং পাশেই বহু যানবাহন পার্ক করা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায় এবং প্যারামেডিকরা আহতদের স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ফুটেজগুলির সত্যতা এখনও যাচাই করা যায়নি।
চীনে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই হেবেই প্রদেশের একটি বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ডে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া গ্যাস লিকজনিত কারণে গত বছর হেবেই ও শেনজেন প্রদেশে দুইটি বড় বিস্ফোরণে তিনজন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছিলেন।
চীন সরকার একাধিকবার নিরাপত্তা বিধিনিষেধ জোরদারের কথা বললেও, এসব দুর্ঘটনা নিয়মিত তদারকি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা মানদণ্ড আরও কঠোর করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দেশজুড়ে।

