আগরতলা, ২০ মার্চ : ত্রিপুরায় দুইটি আসনে লোকসভা নির্বাচন এবং রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে প্রচারের লক্ষ্যে ২৫ জনের জাম্বো কমিটি গঠন করেছে ইন্ডিয়া ব্লক। ওই কমিটিতে যৌথ আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। আজ আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সন্মেলনে এই ঘোষণা দিয়ে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, ত্রিপুরায় ইন্ডিয়া ব্লক সর্ব শক্তি নিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচনে ঝাঁপাবে। ত্রিপুরার মানুষ দেশের এবং রাজ্যের পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন, আশা প্রকাশ করে বলেন তিনি।
এদিন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরায় ইন্ডিয়া ব্লকের যৌথ প্রচারের কর্মসূচী নিয়ে কমিটির গঠনের পাশাপাশি আলোচনা হয়েছে। তবে, আরও সুচারুভাবে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তাই, ওই কমিটি আগামী ২২ মার্চ পুণরায় বৈঠকে বসবে এবং প্রচারের বিস্তারিত কর্মসূচীর রূপরেখা নির্ণয় করবে। সাথে তিনি যোগ করেন, আগামী ২২ মার্চ রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে ইন্ডিয়া ব্লকের প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেবেন। এছাড়া, পশ্চিম ত্রিপুরা আসনে প্রার্থী ২৭ মার্চ এবং পূর্ব ত্রিপুরা আসনে প্রার্থী ২৮ মার্চ মনোনয়ন জমা দেবেন।
এদিন সাংবাদিক সন্মেলনে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী ও কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ ছাড়া পিসিসি সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে সহ ইন্ডিয়া ব্লকের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সুদীপ বাবু আজ আবারও বিজেপিকে নিশানা করে সাঁড়াশি আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর কথায়, দেশে এবং রাজ্যে ঠকবাজ, ভাওতাবাজি এবং গণতন্ত্র কেঁড়ে নেওয়ার সরকার চলছে। অর্থ ও পেশী শক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে সরকার ভাঙ্গাগড়ার খেলা চলছে। তাই, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সমস্ত রাজনৈতিক দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবে।
তাঁর দাবি, মানুষের বিশ্বাসের উপর ভরসা রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে আমরা অবতীর্ণ হচ্ছি। তাঁর কটাক্ষ, আমরা কখনোই বলব না কোন রাজনৈতিক দল ১ লক্ষের বেশি ভোট পাবে না। কারণ, আমরা ভয় পাওয়ার পাত্র নই। আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে দমানো যাবে না। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হবে, আমরা চুপ করে বসে থাকব না।
তিনি জোর গলায় বলেন, গরীব মেহনতি শ্রমজীবী মানুষ, বেকার, কৃষক, সরকারি চাকুরিজীবি, পেনসনার্স, জাতি, জনজাতি, শান্তি, সম্প্রীতি, ধর্মনিরপেক্ষ এবং সংবিধান বাঁচানোর জন্য আমরা জোট গঠন করেছি। মানুষের বিরুদ্ধে মানুষকে লেলিয়ে দেওয়ার রাজনীতিকে মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। তিনি দেশের সমস্ত সংখ্যালঘু অংশের মানুষকে অভয় দিয়ে বলেন, এই দেশ আমার, আপনার সকলের। আমরা দেশের সকল মানুষকে একজোট দেখতে চাইছি। সে জন্যই রাহুল গান্ধী ভারত জুড়ো এবং ন্যায় যাত্রা করেছেন।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ইন্ডি জোট ক্ষমতায় আসলে দেশে জাতি জনগণনা হবে। ধর্ম, জাতপাত এবং ভাষার নামে বিভাজন বন্ধ হবে। কারণ, এই দেশ সকলের। তাই সকলের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, ত্রিপুরায় দুইটি লোকসভা আসনে ভোটে এবং রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে ইন্ডিয়া ব্লকের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করুন।
এদিন সুদীপ বাবু জানান, লোকসভা নির্বাচন এবং রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে প্রচারের লক্ষ্যে ইন্ডিয়া ব্লকের ২৫ জনের কমিটি গঠিত হয়েছে। তাতে যৌথ আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। ওই কমিটিতে অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা, কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল রায়, প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে, বরিষ্ঠ আইনজীবি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস, মিলন বৈদ্য, দীপক দেব, পরেশ সরকার, পার্থ কর্মকার, স্বপন বণিক, অশোক দেববর্মা, দীবাচন্দ্র রাঙ্খল, জয়ন্ত দত্ত, প্রদ্যোত মজুমদার, বিক্রমজিৎ সেনগুপ্ত, গোপাল দাস, নারায়ণ কর, প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ পবিত্র কর, প্রাক্তন মন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া, প্রাক্তন মন্ত্রী রতন ভৌমিক, সুব্রত ভৌমিক, অঞ্জন শুক্ল বৈদ্য, প্রবীণ সিংহ এবং শব্দ কুমার জমাতিয়া।
সাথে তিনি যোগ করেন, জেলা এবং বিধানসভা ভিত্তিক কমিটিও গঠন করা হবে। কারণ, ইন্ডিয়া ব্লক সর্বশক্তি নিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে। তাঁর আশা, ত্রিপুরবাসী সঠিক বিচার বিবেচনা করবেন। ত্রিপুরার মানুষ দেশের এবং রাজ্যের পরিস্থিতি অবশ্যই বিবেচনা করবেন। এরই ফাঁকে তিনি নাম না করে প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনকে একহাত নিয়েছেন।
সুদীপের কটাক্ষ, পূর্ব ত্রিপুরা আসনে প্রার্থীর পরিচয় ত্রিপুরার মানুষ জানেন বলে মনে হয় না। তিনি শিলং-এ জন্মেছেন এবং সেখানেই পড়াশুনা করেছেন। তারপর বৈবাহিক সুত্রে তিনি ছত্তিসগঢ়ে রয়েছেন। ফলে, পূর্ব ত্রিপুরা আসনে ভোটারগণ মতাধিকার প্রয়োগে এসমস্ত বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করবেন। তিনি প্রদ্যোতের উদ্দেশ্যে বিদ্রুপের সুরে বলেন, তিপ্রাসা জাতিগোষ্ঠিকে বিক্রি করে নিজের বোনকে প্রার্থী বানিয়েছেন।
এদিন জিতেন্দ্র বাবু বলেন, আজ ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে প্রচার কর্মসূচীর কমিটি গঠিত হয়েছে। তাঁর কথায়, আগামী ২২ মার্চ ওই কমিটি পুণরায় বৈঠকে বসবে। নির্বাচন পর্যন্ত প্রচার কর্মসূচীর বিস্তারিত রূপরেখা নির্ণয় হবে। তাঁর দাবি, আজকের বৈঠকে আলোচনা হলেও আরও সুচারুভাবে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে আগামী ২২ মার্চ ইন্ডিয়া ব্লকের প্রার্থী রতন দাস মনোনয়ন পত্র জমে দেবেন। এদিকে, পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা আসনে প্রার্থী আশীষ কুমার সাহা ২৭ মার্চ এবং পূর্ব ত্রিপুরা আসনে প্রার্থী রাজেন্দ্র রিয়াং ২৮ মার্চ মনোনয়ন পত্র জমা দেবেন।
তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করুন। তিনি বিদ্রুপের সুরে বলেন, গত ছয় বছরের বিভিন্ন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আগামী লোকসভা ভোট এবং বিধানসভার উপনির্বাচন তার থেকে ব্যতিক্রমি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

