কলকাতা, ২২ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : মিস্ট্রি চিঠি হিস্ট্রি হয়ে গেছে। চিঠি সাসপেন্সে মুখ খুলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের। তিনি বলেন, সাংবিধানিক সহকর্মীকে লেখা চিঠি গোপন থাকা উচিত। সংশ্লিষ্ট পক্ষের কেউ চাইলে সঠিক সময়ে এনিয়ে মুখ খুলবেন।
উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের আবহেই গত ৯ সেপ্টেম্বর নবান্ন ও রাজভবনে জোড়া চিঠি পাঠান রাজ্যপাল। রাজ্যপালের লেখা দুটি চিঠি নিয়ে কদিন আগেই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে রাজ্য-রাজনীতিতে। চিঠিতে কী লিখেছেন রাজ্যপাল, সেই প্রসঙ্গে বিদেশযাত্রার আগে মুখ খোলেননি মুখ্যমন্ত্রীও।
শুক্রবার রাজ্যপালকে এক অনুষ্ঠানের পাশে এ নিয়ে প্রশ্নয়করলে জানান, মিস্ট্রি চিঠি এখন হিস্ট্রি। পাশাপাশি রাজভবন রাজনীতির স্থান নয় বলেও মন্তব্য করেন রাজ্যপাল। তাঁর মন্তব্য, রাজভবন শিল্প-সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জায়গা।
উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে নবান্ন-রাজভবন নজিরবিহীন সংঘাত। মুখ্যমন্ত্রীর অর্থনৈতিক অবরোধের হুঁশিয়ারি, রাজ্যপালের মিডনাইট চ্যালেঞ্জ। পাল্টা রাজ্যপালকে শিক্ষামন্ত্রীর ‘ভ্যাম্পায়ার’ কটাক্ষ। এরপর কী হয়, কী হয়, তা নিয়েই দিনভর চলছিল জল্পনা। শেষপর্যন্ত রাজ্যপালের কড়া বার্তার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন। আর তাতেই নতুন মাত্রা পায় রাজ্যপালের মধ্যরাত সাসপেন্স।
রাজভবন সূত্রে খবর, ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটা ছোঁয়ার আগেই গত ৮ সেপ্টেম্বর দুটি কনফিনডেন্সিয়াল চিঠিতে সই করেন রাজ্যপাল। খামবন্ধ দুটি চিঠির একটির ঠিকানা নবান্ন। আরেকটির ঠিকানা দিল্লি। এরপরই প্রশ্ন ওঠে কী রয়েছে রাজ্যপালের সই করা জোড়া চিঠিতে? উপাচার্য নিয়োগ-সহ একাধিক ইস্যুতে, রাজভবনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক সম্পর্ক যেখানে গিয়ে পৌঁছেছে, তা নিয়েই কি কিছু লেখা রয়েছে কনফিডেন্সিয়াল চিঠিতে? চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে না এলেও, এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ।

